মূল লেখায় যান
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ · ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিপেটা

রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা চাওয়ার সময় পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। তাদের দাবি, তারা কোনো আন্দোলন বা সড়ক অবরোধ করতে আসেননি। কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে এবং কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার নিরাপত

মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিপেটা

রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা চাওয়ার সময় পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। তাদের দাবি, তারা কোনো আন্দোলন বা সড়ক অবরোধ করতে আসেননি। কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে এবং কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ এসে তাদের ওপর হামলা চালায়।

আজ বুধবার সকালে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার ডেকো গার্মেন্টসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েক দিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। এ পরিস্থিতিতে মিরপুর-১১ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

ডেকো এ্যাপার্টমেন্ট গার্মেন্টসের শ্রমিকরা জড়ো হলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় গার্মেন্টসের সামনে উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে পুলিশ সেখান থেকে সরে মিরপুর ১১ ডেসকো অফিসের সামনে এসে অবস্থান নেয়।

ডেকো এ্যাপার্টমেন্ট গার্মেন্টসের আসমা নামে নারী শ্রমিক বলেন, আমরা মাঠে যাইনি, রাস্তায়ও যাইনি আন্দোলন করার জন্য। আমরা এখানে আমাদের অফিসের কর্মসূচি পালন করছিলাম। মালিক ও সিও স্যারের সাথে কথা বলছিলাম। আমাদের জানানো হচ্ছিল, কারখানা খোলা থাকবে কি না, আমরা পরদিন কাজে আসব কি না। এর মধ্যে পুলিশ আচমকা এসে আমাদের মারতে শুরু করে। 

তিনি বলেন, আমরা আন্দোলন করতে আসিনি। আমাদের নিরাপত্তার জন্য অফিসের কাছে আবেদন করতে এসেছি। আমরা স্যারের সাথে কথা বলব, স্যার আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের গায়ে হাত তুলছে। আমরা যদি আন্দোলনে নাও নামি, তারপরও কেন আমাদের মার খেতে হবে? আমাদের কি কোনো নিরাপত্তা নেই?

ডেকো গার্মেন্টসের সুইং অপারেটর বিথি বলেন, আমরা আইডি কার্ড পরে রাস্তায় আন্দোলন করছি, তারপরও আমাদের নিরাপত্তা নেই। আমার বাসা রাস্তার ওপারে। আমি যদি বাসায় যেতে মেইন রোড পার হই, পুলিশ আমাদেরও মারে। সবার বাসা কি রাস্তার ওই পাশে? আমাদের মধ্যে মহিলা মানুষ আছে, গর্ভবতী নারীও আছে। পুলিশের উচিত, যারা বাসায় যেতে চায়, তাদের নিরাপদে রাস্তা পার করে দেওয়া। কিন্তু তারা আমাদের নিরাপত্তা না দিয়ে উল্টো মারধর করছে।

তিনি আরও বলেন, একজন গার্মেন্ট শ্রমিকের কাছে একটি ম্যাচ থাকলেও গেটে আটকানো হয়। অথচ পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানোর মতো জিনিস কোথায় পাওয়া গেল, সেটি দেখতে হবে। আমরা কেন মার খাচ্ছি? আমাদের তো নিরাপত্তা পাওয়ার কথা।

আরেক শ্রমিক বলেন, আমরা প্রতিদিন কাজে আসি। কারখানা খোলা থাকে, আবার কিছুক্ষণ পর ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। এতে আমাদের ভোগান্তি হয়। আজ আমরা সিও স্যারের সাথে কথা বলতে এসেছিলাম। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমাদের একজন মেয়ের পা ভেঙে গেছে। আমরা এখন কীভাবে নিরাপদে বাসায় ফিরব?

তিনি আরও বলেন, আমরা শ্রমিকরা সবচেয়ে ভদ্রভাবে কাজ করি। স্যাররা যেভাবে বলেন, সেভাবেই ডিউটি করি। কখনো কোনো ঝামেলা করি না। গতকালও আমাদের মেসেজ দেওয়া হয়েছিল, তাই সকালে কাজে এসেছি। পরে ছুটি দেওয়া হয়েছে। আমরা শুধু জানতে চাই, আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে?

এক নারী শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন কাজে আসব, আবার পুলিশের মার খাব, এটা কেমন কথা? আমরা মহিলা মানুষ। আমাদের বাসায় যেতে হয়, পরিবারের কাছে ফিরতে হয়। রাস্তায় বের হলেই যদি মার খেতে হয়, তাহলে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়?

ডেকো গার্মেন্টসের আরেক শ্রমিক মুসলিম বলেন, আমরা ডিউটিতে আসছি। পরে কারখানা বন্ধ বলে ছুটি দেওয়া হয়েছে। এখন বাসায় যাচ্ছি। পুলিশ আমাদের আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

হাফিজ নামে আরেক শ্রমিকও একই অভিযোগ করে বলেন, তারা কারখানায় কাজে যোগ দিতে এসেছিলেন। পরে ছুটি দেওয়ায় বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। 

শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই তারা অবস্থান করছিলেন। কিন্তু পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং মারধর করে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০