মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সারাদেশ

জীবননগর থানায় জব্দ ৯১২ বস্তা সার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা ৯১২ বস্তা সরকারি রাসায়নিক সার বিক্রিতে অনিয়ম ও অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে জীবননগর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১১ লাখ ৪ হাজার ৯৫০ টাকা মূল্যের ডিএপি, টিএসপি, এমওপি ও ইউরিয়া সার মাত্র ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩০ টাকায় বিক্রি দেখানো হয়েছে।...

জীবননগর থানায় জব্দ ৯১২ বস্তা সার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা ৯১২ বস্তা সরকারি রাসায়নিক সার বিক্রিতে অনিয়ম ও অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে জীবননগর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১১ লাখ ৪ হাজার ৯৫০ টাকা মূল্যের ডিএপি, টিএসপি, এমওপি ও ইউরিয়া সার মাত্র ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩০ টাকায় বিক্রি দেখানো হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ৪ লাখ ৭১ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনজন সার ডিলারের নামে রেট কোটেশনের মাধ্যমে সার বিক্রির প্রক্রিয়া দেখানো হলেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ সার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়ার বিএডিসি সার ও বীজ ডিলার ছন্দা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শ্যামলের কাছে চলে যায়। এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করতে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

জানা গেছে, এনএসআইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর জীবননগর শহরের একটি সার দোকান থেকে ৪০০ বস্তা এবং ২৬ সেপ্টেম্বর জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান শেখ হাসাদাহ এলাকার একটি সার দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুদ রাখা আরও ৫১২ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেন।

পরে ২৮ সেপ্টেম্বর জব্দ করা সারের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা চেয়ে পুলিশ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আদালত ৫ অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় একজন সার ডিলারের মাধ্যমে জব্দ করা সার বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

এরপর পুলিশ একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে ২ অক্টোবর সার নিলামের কথা জানায়। তবে নির্ধারিত দিনে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ৬ অক্টোবর বিকেলে জীবননগর থানা পুলিশ বিএডিসির তিনজন সার ডিলারকে ডেকে রেট কোটেশনের মাধ্যমে ৯১২ বস্তা সার বিক্রি করে।

এতে ১১ লাখ ৪ হাজার ৯৫০ টাকা মূল্যমানের সার ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বাজারমূল্য ও বিক্রয়মূল্যের এই ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিকে অবহিত না করেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

জীবননগর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “জব্দকৃত সার নিলাম দেওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। কৃষি বিভাগ বা মনিটরিং কমিটিকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ডিলারদের মাধ্যমে কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরকারি মূল্যে সার বিক্রির কথা ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল মঙ্গলবার থানা পুলিশ নিলাম পরিচালনা করলেও আমাদের জানানো হয়নি। বুধবার সকালে ওসি সোলায়মান শেখ যোগাযোগ করলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সারগুলো উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার পুনরায় রি টেন্ডার করার কথা বলা হয়েছে।”

এদিকে নিলামের পর বিএডিসির আন্দুলবাড়িয়া সার ও বীজ ডিলার শ্যামল পুলিশের নির্দেশে সারগুলো থানায় ফেরত পাঠাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান শেখ বলেন, “সার নিলামের বিষয়টিতে কোনো অনিয়ম হয়নি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন তথ্য সামনে আসায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুনরায় রি টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলছে।”

তবে কৃষি বিভাগকে না জানিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট মনিটরিং কমিটির সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কীভাবে জব্দকৃত সরকারি সার নিলাম করা হলো, তা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জব্দ করা সারের নিলাম প্রক্রিয়া, বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদের আর্থিক ক্ষতি হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০