বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমীর জন্মদিন আজ। ৫২ বছরে পা দিয়েছেন ঢালিউডের এই তারকা। বিশেষ দিনে স্ত্রীকে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা ওমর সানী। মৌসুমীকে বাংলা চলচ্চিত্রের শেষ মেগাস্টার আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তিনি।
১৯৭৩ সালের ৩ নভেম্বর নাজমুজ্জামান মনি ও শামীমা আখতার জামান দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন মৌসুমী। পরিবারের বড় মেয়ে তিনি। প্রতিবছর জন্মদিনে নানা আয়োজন থাকলেও এবার তেমন কোনো আয়োজন নেই। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এই অভিনেত্রী।
জন্মদিন উপলক্ষে স্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ওমর সানী লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী। বাংলা চলচ্চিত্রের শেষ মেগাস্টার শুধু তুমি...।’
এর আগে সোমবার রাত ১১টার দিকে মৌসুমীর জন্মদিন উপলক্ষে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন ওমর সানী। সেখানে স্ত্রীর সুস্থতা, ভালো থাকা ও সম্মানজনক জীবনের জন্য দোয়া করেন তিনি। একই সঙ্গে মৌসুমীকে পরিবারের তাজ হয়ে থাকার শুভকামনা জানান।
ভিডিওর ক্যাপশনে ওমর সানী আরও জানান, মৌসুমীর ফ্যান ক্লাবের আয়োজনে তিনি উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া ৪ নভেম্বর সাভারের হেমায়েতপুরে চাপওয়ালা শ্বশুরবাড়ি রেস্টুরেন্টে মৌসুমী ও ফাইজার জন্মদিন উপলক্ষে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হবে। এ আয়োজনের জন্য আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার দোয়াও করেন তিনি।
১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় মৌসুমীর। সিনেমাটিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ। এটি ছিল দুজনেরই অভিষেক সিনেমা। প্রথম ছবিতেই দর্শক, পরিচালক ও প্রযোজকদের নজর কাড়েন মৌসুমী।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ঢালিউডে। চিত্রনায়ক মান্না ও ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পাশাপাশি স্বামী ওমর সানীর সঙ্গেও বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে স্বীকৃতিও পেয়েছেন অসংখ্য। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন মৌসুমী। এ ছাড়া তিনবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এবং ছয়বার বাচসাস পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
অভিনয়ের বাইরেও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন এই অভিনেত্রী। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ইউনিসেফের হয়ে কাজ করছেন তিনি।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।