মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সারাদেশ

বিয়ে পড়ানোর কথা বলে কাজীকে তুলে নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়, যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

মুন্সিগঞ্জে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে এক কাজীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চাঁদার দুই লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী...

বিয়ে পড়ানোর কথা বলে কাজীকে তুলে নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়, যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

মুন্সিগঞ্জে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে এক কাজীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চাঁদার দুই লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কাজীর নাম মো. হাবিবুর রহমান। তার বয়স ৫২ বছর। তিনি মুন্সিগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকায় বসবাস করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল সোমবার দুপুর দুইটার দিকে রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে তার বাসায় যান। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে তাকে প্রথমে কাটাখালী এলাকার কার্যালয়ে এবং পরে জোর করে মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে হাবিবুর রহমান বলেন, মুক্তারপুরের একটি কক্ষে তাকে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তার কাজীর লাইসেন্স বাতিল এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তিনি টাকা দিতে রাজি হন।

পরে তাকে মুন্সিগঞ্জ কাঁচারিবাজারের অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা তোলা হয়। পরে তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে আসামিদের ওই টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর রাজিব হোসেনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তসলিমউদ্দিন জানান, মামলার পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

হাবিবুর রহমানের ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান বলেন, ভয় পাওয়ায় তার বাবা প্রথমে তাকে বিষয়টি জানাতে চাননি। রাত ১০টার দিকে ঘটনা জানার পর তিনি মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানকে বিষয়টি জানান। পরে তার পরামর্শে বাবাকে নিয়ে থানায় যান। কিছুক্ষণ পর রাজিব হোসেন থানায় এসে দুই লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ওই টাকা উদ্ধার করা হয়।

নাহিদ হাসানের অভিযোগ, টাকা ফেরত দেওয়ার পরও বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য তাদের চাপ দেওয়া হয়। মামলা করলে পরিবার বিপদে পড়তে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়েছিল। তিনি বলেন, সাংবাদিক পরিবার হওয়ার পরও তাদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। তাই ঘটনায় জড়িত সবাইকে এবং তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, ঘটনার পর রাজিব হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে যুবদল। আজ মঙ্গলবার দুপুরে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের কারণে রাজিব হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০