চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগকে ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে সই করেছেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর এবং যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আবু হানিফ নোমানসহ অন্যান্য নেতা।
একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘রহস্যজনক ভূমিকায়’ তাঁরা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নেতারা বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা, আর সেই আন্দোলনে আটকে গেছে পরীক্ষা, পাঠদানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম। অন্তত ছয় বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা ইতিমধ্যে স্থগিত হয়েছে এবং ক্লাসও বন্ধ। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন, তবু দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের দাবি, অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীসহ সবার কথা সরাসরি শুনতেন এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের সুবাদে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ পেয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, চুয়েটের বাইরে থেকে উপাচার্য নিয়োগ, মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো কারণ ছাড়াই তাঁকে সরানো এবং নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘বিতর্ক’ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নিয়োগ দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করা হয়েছে।
নেতারা আরও বলেন, শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব নিলেও ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। অন্যদিকে অধ্যাপক সায়েম দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় থাকাকালে তাঁকে না জানিয়ে বা কারণ দর্শানো ছাড়াই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সম্মানজনক নয়।
ক্যাব নেতারা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধা ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং মেধাবীদের যোগ্য সম্মান ফেরাতে সরকার উদ্যোগী হবে। কারও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির চেয়ে জ্ঞানচর্চাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।