মূল লেখায় যান
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ · ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

এক মাসে হত্যা, হামলা ও হুমকির শিকার ২৮ সংবাদকর্মী

অক্টোবর মাসে দেশে অন্তত ২৮ জন সংবাদকর্মী হত্যা, শারীরিক হামলা, আইনি হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে, ১৮ জন শারীরিক হামলায় আহত হয়েছেন এবং ৯ জন আইনি হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়েছেন।

এক মাসে হত্যা, হামলা ও হুমকির শিকার ২৮ সংবাদকর্মী
ছবি: সংগৃহীত

অক্টোবর মাসে দেশে অন্তত ২৮ জন সংবাদকর্মী হত্যা, শারীরিক হামলা, আইনি হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে, ১৮ জন শারীরিক হামলায় আহত হয়েছেন এবং ৯ জন আইনি হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের (বিএজে) প্রকাশিত অক্টোবর মাসের মনিটরিং প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটির গবেষণা ও মনিটরিং সেলের সম্পাদক মাহমুদুল হাছান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাসজুড়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ঝুঁকি ও অনিরাপদ পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং নিজস্ব সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বিএজে। এতে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে একজন সংবাদকর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন, ১৮ জন শারীরিক হামলা ও আঘাতের শিকার হয়েছেন এবং ৯ জন আইনি হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়েছেন।

প্রতিবেদনে সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া গ্রামের সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। চায়ের দোকানে বসে থাকার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর গুলিতে তিনি নিহত হন। সামাজিক ও রাজনৈতিক অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানী লেখালেখির কারণে তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁর সহকর্মীরা দাবি করেছেন।

অক্টোবরজুড়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীদের হাতে অন্তত ১৮ জন সংবাদকর্মী শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অস্ত্রের মিছিলের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে চার সাংবাদিক হামলার শিকার হন। এ সময় একজনের মাথা ফেটে যায়। আহত সাংবাদিকদের উদ্ধারে এগিয়ে আসা অন্য সাংবাদিকদেরও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক সাংবাদিককে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল মোটরসাইকেলে এসে চোখ-মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে নগ্ন ভিডিও ধারণের অভিযোগও রয়েছে। মাজার বস্তির মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঝিনাইদহে একটি কলেজের ইট বিক্রির অনিয়মের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজের অধ্যক্ষের মদদে বহিরাগতরা তাঁদের রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হলে কারাগারে যেতে হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডিবি পুলিশের মাদকসংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি হয়রানি ও হুমকির ঘটনাও তুলে ধরেছে বিএজে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সিলেট সাইবার সিকিউরিটি আদালতে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন।

অন্যদিকে, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে মৃত নারীদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক সাংবাদিক প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) মর্গের সাবেক এক সহকারীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি ফোন করে সাংবাদিককে ভয় দেখানোর পাশাপাশি আদালতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও আইনি হয়রানির এসব ঘটনাকে মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য ‘অশনি সংকেত’ হিসেবে দেখছে বিএজে। সংগঠনটির মতে, রাজনৈতিক ক্ষমতা বা পেশিশক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

প্রতিবেদনে প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০