মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সারাবিশ্ব

এক মাসে ইয়েমেনের ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলের দাবি হুথিদের

সৌদি আরব ও দেশটির সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে ৩৭ দিনের সংঘাতে ইয়েমেনের নতুন ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের চারটি শহরে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে...

এক মাসে ইয়েমেনের ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলের দাবি হুথিদের

সৌদি আরব ও দেশটির সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে ৩৭ দিনের সংঘাতে ইয়েমেনের নতুন ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের চারটি শহরে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এরপর এক মাস সাত দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও শহরে হামলা চালানোর পাশাপাশি ইয়েমেনের নতুন এলাকাও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুথিরা।

সংঘাতের এই সময়কে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নির্ণায়ক পর্যায় হিসেবে অভিহিত করেছে ইয়েমেনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, “এখানে যা ঝুঁকির মুখে রয়েছে, তা হলো খোদ ইয়েমেন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, ইয়েমেনি নাগরিকরা কেমন সমাজে বসবাস করবেন এবং সেই ভবিষ্যৎ কারা নির্ধারণ করবেন, সেসব বিষয়।”

হামলার এক মাস

এনডিটিভি ডেটাফাইয়ের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার, পাইপলাইন, গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে অন্তত দুই ডজন বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কয়েকটি হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ১ হাজার ২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চার দিনের মধ্যে অন্তত তিনবার হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এসব হামলার কারণে কর্তৃপক্ষকে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করতে হয়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে এসব হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া সৌদি আরবের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের আবহা, নাজরান ও জিজান শহরের বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত এক মাসে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের অন্তত নয়টি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে তেল শোধনাগার, তেলক্ষেত্র ও গ্যাসকেন্দ্র।

হামলাগুলো সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রাখতে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

যেভাবে তীব্র হলো সংঘাত

জুলাইয়ের শেষ দিকে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজগুলোর ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। পরে খামিস মুশাইত, নাজরান, জিজান ও আবহা শহরে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়। এসব হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হন এবং তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এরপর হুথিরা আকস্মিক স্থল অভিযান চালিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি লোহিত সাগরের উপকূলীয় কয়েকটি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এর জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেয়। উল্লেখ্য, ৪ অক্টোবর থেকে ওই সরকারের বাহিনী কয়েকটি এলাকায় সাফল্য অর্জন করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

সানা সেন্টারের সহ নির্বাহী পরিচালক ওসামা আল রাওয়ানি বলেছেন, হুথিদের পরাজিত করা সহজ হবে না। কারণ, সংগঠনটি উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলেছে।

এএফপিকে তিনি বলেন, “তবে কোনো এলাকা ধরে রাখা এবং পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রয়োজন আর্থিক সম্পদ, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও দৃঢ় সংকল্প, বিশেষ করে রিয়াদের পক্ষ থেকে। সৌদি আরবের অতীতের কর্মকাণ্ড এমন কোনো আস্থার জন্ম দেয় না যে, দীর্ঘস্থায়ী কোনো যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা বা ধৈর্য তাদের আছে।”

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও তীব্র হলে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি বাড়বে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আগে থেকেই চাপে রয়েছে।

একই সঙ্গে লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপরও হুথিদের হামলার আশঙ্কা বাড়তে পারে। এতে আঞ্চলিক সংঘাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সূত্র, এএফপি, এনডিটিভি, রয়টার্স।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০