ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। অন্যদিকে, ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় রাশিয়ার শীর্ষ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ইয়ানডেক্সের একাধিক তথ্যকেন্দ্র (ডেটা সেন্টার) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হয়েছে। এতে আর্থিক লেনদেন, যাতায়াত ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে ভোগান্তিতে পড়েছেন বহু রুশ নাগরিক।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রসিকিউটর কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে রুশ ড্রোন হামলায় হতাহতের বিষয়টি জানায়। এতে বলা হয়, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা বন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী মহাসড়কের কাছে এ হামলা চালানো হয়। হামলার পর বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং আহত হন আরও চারজন। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও হামলার পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
এদিকে, ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় রাশিয়ার প্রযুক্তি খাতেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ইয়ানডেক্সের একাধিক ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা অচল হয়ে পড়ে। আর্থিক লেনদেন, ট্যাক্সি পরিষেবা, খাবার সরবরাহ এবং ফাইল সংরক্ষণের মতো দৈনন্দিন ডিজিটাল কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন ব্যবহারকারীরা। ইউক্রেনের ইন্টারনেট অবকাঠামোয় রাশিয়ার হামলার জবাবে কিয়েভ এ পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়ানডেক্সকে প্রায়ই ‘রাশিয়ার গুগল’ বলা হয়। দেশটির মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অনলাইনভিত্তিক সেবার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচটি প্রধান ডেটা সেন্টারের মধ্যে তিনটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে। এর ফলে ইয়ানডেক্সের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারে সমস্যা দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, তাঁরা ট্যাক্সি ডাকতে, খাবার অর্ডার করতে কিংবা অনলাইনে ফাইল সংরক্ষণ করতে পারছেন না। এমনকি ডিজিটাল চাবির সেবা ব্যাহত হওয়ায় কয়েকজন ব্যবহারকারী নিজেদের বাসায় প্রবেশ করতেও সমস্যায় পড়েন।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ইয়ানডেক্স পের ব্যবহারকারীরা। সেন্ট পিটার্সবার্গের ব্লগার ইরিনা জানান, টানা চার দিন ধরে তিনি নিজের সঞ্চিত অর্থ তুলতে পারেননি। এতে বাড়িভাড়া পরিশোধ করা এবং সন্তানের খাবার কেনা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। দৈনন্দিন ব্যয়ের জন্য ডিজিটাল আর্থিক সেবার ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে, মস্কোর তিনজন ট্যাক্সিচালক জানিয়েছেন, ইয়ানডেক্সের অ্যাপ বন্ধ থাকায় তাঁরা নিজেদের আয়ের হিসাব দেখতে এবং উপার্জিত অর্থ তুলতে পারেননি। ফলে তাঁদের দৈনন্দিন আয়-ব্যয়ের হিসাবেও বিঘ্ন ঘটে। প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহনসেবার ওপর নির্ভরশীল চালকদের জন্য এ পরিস্থিতি আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি এখন গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, আর্থিক লেনদেন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।