মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সারাদেশ

কুতুবদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১৪ বসতঘর ও ৫ গুদাম পুড়ে ছাই

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪টি বসতঘর ও জেলেদের মাছ ধরার সরঞ্জাম ও জাল রাখার পাঁচটি গুদামঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৪৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও প্রয়োজনীয় মালামাল হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত...

কুতুবদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১৪ বসতঘর ও ৫ গুদাম পুড়ে ছাই

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪টি বসতঘর ও জেলেদের মাছ ধরার সরঞ্জাম ও জাল রাখার পাঁচটি গুদামঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৪৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও প্রয়োজনীয় মালামাল হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফৈত্যার পাড়া গ্রামের বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের নুরুল কাদের ও রুহুল কাদেরের বসতবাড়ির রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আগুনের লেলিহান শিখা ১৪টি পরিবারের বসতঘর ও জেলেদের পাঁচটি গুদামঘর গ্রাস করে। এতে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়। একই সঙ্গে মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত নুরুল কাদের ও মোহছেনা বেগম জানান, আগুনে তাঁদের ঘরের প্রায় সবকিছু পুড়ে গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই রক্ষা করতে পারেননি তাঁরা। নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও হাঁস-মুরগিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে তাঁরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বসতবাড়ির পাশাপাশি মাছ ধরার সরঞ্জামও পুড়ে যাওয়ায় জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও একটি পবিত্র কোরআন শরিফ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে এর আগেই বসতঘর ও গুদামঘরের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।

কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. সোহেল আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। পরে দুটি ইউনিটের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় আনুমানিক ৪৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী, কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল হক এবং কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শফিউল আলম।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি ও জীবিকার উপকরণ পুড়ে যাওয়ায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০