মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সারাবিশ্ব

ক্যালিফোর্নিয়ায় সেলফ-ড্রাইভিং মোডে থাকা টেসলার ধাক্কায় পথচারী নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং’ (এফএসডি) প্রযুক্তি চালু থাকা একটি টেসলা গাড়ির ধাক্কায় ৭১ বছর বয়সী এক পথচারী নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গভীর রাতে ভালেজো শহরের কাছে ৮০ নম্বর আন্তরাজ্য মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় মোডে ছিল, নাকি চালককে সহায়তাকারী কোনো...

ক্যালিফোর্নিয়ায় সেলফ-ড্রাইভিং মোডে থাকা টেসলার ধাক্কায় পথচারী নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং’ (এফএসডি) প্রযুক্তি চালু থাকা একটি টেসলা গাড়ির ধাক্কায় ৭১ বছর বয়সী এক পথচারী নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গভীর রাতে ভালেজো শহরের কাছে ৮০ নম্বর আন্তরাজ্য মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় মোডে ছিল, নাকি চালককে সহায়তাকারী কোনো ফিচার সক্রিয় ছিল, তা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। গাড়ির চালকের দাবি, দুর্ঘটনার সময় এটি চালক-সহায়তা মোডে চলছিল।

ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রল (সিএইচপি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ২টা ৩৪ মিনিটের দিকে ওই বৃদ্ধ মহাসড়কের ডান পাশ থেকে সড়কের বিভাজকের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় সান ফ্রান্সিসকোর ২৬ বছর বয়সী এক তরুণের চালানো টেসলা গাড়িটি তাকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১১২ কিলোমিটার। গভীর রাতে ওই ব্যক্তি কেন ব্যস্ত মহাসড়কে প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সিএইচপির বিবৃতি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ভিডিওতে দেখা গেছে, পথচারীকে দেখতে পেয়ে টেসলার চালক গাড়ির ব্রেক চাপেন এবং সংঘর্ষ এড়াতে বাঁ দিকে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গাড়িটির সামনের ডান পাশের অংশ ওই বৃদ্ধকে আঘাত করে। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় আরেকটি গাড়ি ওই পথচারীকে চাপা দেয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে থামা গাড়িগুলোর মধ্যে টেসলাটির চালকই থেমেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনাটি ঘিরে টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং’ নাম হলেও প্রযুক্তিটি ব্যবহারের সময় চালককে পুরোপুরি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না। টেসলার নির্দেশনায় চালকদের সব সময় সড়কের দিকে মনোযোগ রাখা, গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্টিয়ারিং ও ব্রেক ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এ প্রযুক্তি সক্রিয় থাকলেও গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে চালকের সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, চালক-সহায়তা বা স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি ব্যবহারের সময়ও নিরাপদে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব চালকের ওপরই বর্তায়। ফলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকার পাশাপাশি চালকের প্রতিক্রিয়া, গাড়ির গতি এবং সড়কের পরিস্থিতিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভালেজোর এ দুর্ঘটনায় ঠিক কী কারণে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি ব্যবহারের সময় টেসলা গাড়ি দুর্ঘটনায় জড়ানোর ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের কেটি শহরে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং মোডে থাকা একটি টেসলা গাড়ি ৭৬ বছর বয়সী মার্থা আভিলা নামের এক নারীর বাড়িতে ঢুকে পড়ে। ওই ঘটনায় নারীটির মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সময় মাইকেল বাটলার নামের এক ব্যক্তি গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।

একাধিক দুর্ঘটনার খবরের পর টেসলার চালক-সহায়তা প্রযুক্তির কার্যকারিতা, সীমাবদ্ধতা এবং সড়কে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ আলাদাভাবে তদন্ত করা জরুরি। ক্যালিফোর্নিয়ার সাম্প্রতিক এ ঘটনায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি, চালকের সিদ্ধান্ত কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতি দায়ী ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্তের বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০