মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
অর্থনীতি

লভ্যাংশ বিতরণে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বিএসইসি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নগদ লভ্যাংশ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঘোষিত লভ্যাংশের সম্পূর্ণ অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন না করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।...

লভ্যাংশ বিতরণে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বিএসইসি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নগদ লভ্যাংশ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঘোষিত লভ্যাংশের সম্পূর্ণ অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন না করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান নির্দেশনা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১ হাজার ৩৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখন থেকে বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) নগদ লভ্যাংশের প্রস্তাব উপস্থাপনের আগে ঘোষিত লভ্যাংশের সম্পূর্ণ অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে তা এজিএমে উপস্থাপন করতে হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে কোম্পানির লভ্যাংশের প্রস্তাব এজিএমে উপস্থাপন করা যাবে না। এ বিধান কার্যকর করতে বিদ্যমান নির্দেশনা সংশোধন করা হবে।

বিএসইসি জানিয়েছে, বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ঘোষিত বার্ষিক বা চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশের সম্পূর্ণ অর্থ এজিএমের অন্তত এক দিন আগে পৃথক ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে হয়। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ও কোম্পানি সচিবের সত্যায়নসহ ওই প্রত্যয়নপত্র এজিএমে উপস্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে সম্প্রতি কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে এসব নির্দেশনা পালনে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে লভ্যাংশ বিতরণ প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

এদিকে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এ সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে বিদ্যমান স্বতন্ত্র পরিচালকদের পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিশনের সম্মতি পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসবে।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড, ২০১৮ অনুসারে কোনো স্বতন্ত্র পরিচালককে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হালনাগাদ পরিচ্ছন্ন ঋণতথ্য প্রতিবেদন (ক্লিন সিআইবি রিপোর্ট) পাওয়ার শর্তে বিএসইসির সম্মতি দেওয়া হবে।

এ ছাড়া যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসংক্রান্ত শর্ত থেকে আগে অব্যাহতি পাওয়া কোনো স্বতন্ত্র পরিচালক অন্য কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে নিয়োগ পেলে কিংবা একই কোম্পানিতে পুনর্নিয়োগ পেলে আগের অব্যাহতির সুবিধা বহাল থাকবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিচালককে নতুন করে কমিশনের কাছ থেকে অব্যাহতি নিতে হবে না।

বিএসইসির এসব সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ বিতরণে আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং করপোরেট সুশাসন জোরদার করা। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান নিয়ম অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০