মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নগর বন্দর

মাল্টা ৪৮০–৫২০ টাকায় বিক্রি গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : ১২১ শতাংশ শুল্ক থাকার পরও একদিন কোনো কোনো জায়গায় মাল্টা ৪৮০-৫২০ টাকা বিক্রি হয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

মাল্টা ৪৮০–৫২০ টাকায় বিক্রি গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : ১২১ শতাংশ শুল্ক থাকার পরও একদিন কোনো কোনো জায়গায় মাল্টা ৪৮০-৫২০ টাকা বিক্রি হয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গত দুই তিন দিনে আবার মাল্টার দাম কমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) আয়োজিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

ডলার সংকটের সময় আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ফলের শুল্ক বাড়ানো হয়েছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ফলের ওপর আমাদের শুল্ক ৯৬ শতাংশ।

সিডি, এসডি একটার ওপর একটা বসিয়ে ভ্যাট কাউন্ট করে। সব মিলে রিয়েল ট্যাক্স ১২১ শতাংশ। খুবই সাম্প্রতিককালে এটা যৌক্তিকহারে নির্ধারণ করা হবে। আমরা চাই জনস্বাস্থ্যের জন্য মানুষ বেশি বেশি ফল কিনুক।

ভিটামিন সি এর অন্যতম সোর্স হচ্ছে মাল্টা কমলা ইত্যাদি। আমরা চাই সারা বছর ফলের সরবরাহ স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল থাকবে। কীভাবে থাকবে সেটা নিয়েও আমরা কাজ করছি। শুধু রমজান সামনে রেখে নয়, এগুলো স্থায়ীভাবে যৌক্তিক করা হবে।

তিনি বলেন, আমদানি ব্যয় কমাতে ফল ও খেজুরের শুল্ক যৌক্তিকীকরণ, ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ঋণের সুদহার কমানোর বিষয়ে আলোচনা এবং পণ্য পরিবহন ও খালাসের প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাজারে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

নিত্যপণ্যের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে আমদানি ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, খেজুরের শুল্ক কমানোর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ব্যাংকঋণের সুদহার কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

ডিমের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিমের দাম কখনো কখনো বেড়ে যায়। আপনি যদি গত পাঁচ বছরের হিসাব নেন, দেখবেন সেপ্টেম্বরের পর ডিমের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়। কারণ গরমের সময় মুরগি ডিম দেওয়া কমিয়ে দেয়, ৮-১০ শতাংশ ড্রপ করে ফেলে। আবার নষ্ট হওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায় গরমের কারণে। আপনি পাচ্ছেন কম, নষ্ট করছেন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, ডিমের চাহিদা বেশি, সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। এটা আবার দুই তিন সপ্তাহ পর আগের জায়গায় চলে আসে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে ন্যূনতম মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়া ঠেকাতে অন্যান্য আমদানি পণ্যের শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১১ বছর বেতন বাড়েনি। মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতায় তৈরি হওয়া ঘাটতি সমন্বয়ের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যবস্থা এখনো কার্যকর হয়নি এবং এক বছরে ধাপে ধাপে সমন্বয়ের কথা রয়েছে। ফলে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এর বাস্তব প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০