মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সারাবিশ্ব

মার্কিন নির্বাচনে রুশ অপতথ্য প্রচারের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের লক্ষ্য করে রাশিয়া অপতথ্য প্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির কংগ্রেসের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির শীর্ষ দুই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। তাঁদের দাবি, গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে রাশিয়ার এমন তৎপরতার তথ্য উঠে এসেছে, যার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া বিজ্ঞাপনও রয়েছে। তবে মার্কিন...

মার্কিন নির্বাচনে রুশ অপতথ্য প্রচারের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের লক্ষ্য করে রাশিয়া অপতথ্য প্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির কংগ্রেসের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির শীর্ষ দুই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। তাঁদের দাবি, গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে রাশিয়ার এমন তৎপরতার তথ্য উঠে এসেছে, যার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া বিজ্ঞাপনও রয়েছে। তবে মার্কিন নির্বাচনী অবকাঠামোয় হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ভোটের ফল পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

বুধবার সিনেটের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট মার্ক ওয়ার্নার এবং প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জিম হাইমস সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনের কাছে নির্বাচনের নিরাপত্তা বিষয়ে ব্রিফিং চেয়েছিলেন তাঁরা। তবে বৈঠকে আলোচিত বেশ কিছু তথ্য গোপনীয় হওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি আইনপ্রণেতারা।

মার্ক ওয়ার্নার বলেন, ২০১৬, ২০২০ ও ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনলাইনে যে ধরনের অপতথ্য প্রচারের বিষয়ে সতর্ক করেছিল, এবারও তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়া আগের মতোই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। এ প্রসঙ্গে টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো এবং জর্জিয়া থেকে পুনর্নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া সিনেটর জন অসফকে ঘিরে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

জিম হাইমস বলেন, বিদেশি অপতথ্য প্রচারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে ভোটযন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল করাও এ ধরনের প্রচারণার লক্ষ্য হতে পারে। তবে গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে ঠিক কী ধরনের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে দেশটির দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে বিভিন্ন সময়ে মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে মস্কো। ফলে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার কথিত অপতথ্য প্রচারের বিষয়টি নতুন করে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চীনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ

গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে চীনের সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জিম হাইমস। তবে তাঁর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস অভিযোগটিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বেইজিংও অতীতে মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে, বিদেশি শক্তির অপতথ্য প্রচার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী অবকাঠামোয় হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ভোটের ফল বদলে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জোর দিয়েছেন হাইমস। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি শক্তিগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে, তবে সেই প্রচেষ্টা এবং সরাসরি ভোটের ফল পরিবর্তনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার মতো বিদেশি হস্তক্ষেপের সক্ষমতা বা অভিপ্রায়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের জন্য ভোট দেবেন মার্কিন নাগরিকেরা। এই নির্বাচনের ফল কংগ্রেসের দুই কক্ষে ক্ষমতার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে, তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক জনমত জরিপের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন রিপাবলিকানদের তুলনায় কয়েক থেকে ১০ শতাংশ পয়েন্টের বেশি ছিল। এই জনসমর্থনকে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এবং সিনেটেও অগ্রগতি অর্জনের আশা করছে ডেমোক্র্যাটরা।

এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নির্বাচন-পরবর্তী বিতর্কের আশঙ্কাও বাড়িয়ে তুলেছে। মার্ক ওয়ার্নার ও জিম হাইমস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে নির্বাচনী অবকাঠামোয় বিদেশি হ্যাকিংয়ের অভিযোগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন। তাঁদের আশঙ্কা, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে ভোটের ফল এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে বিদেশি অপতথ্য প্রচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিদেশি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ভোটের ফল পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের আগে অপতথ্য মোকাবিলা এবং ভোটারদের আস্থা বজায় রাখাই এখন মার্কিন কর্তৃপক্ষের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০