মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সারাবিশ্ব

নির্বাচনী জরিপে নেতানিয়াহুকে টেক্কা আইজেনকটের, আসনেও এগিয়ে বিরোধীরা

ইসরায়েলের আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জনমত জরিপে সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী রাজনীতিক গাদি আইজেনকট। শুধু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতার প্রশ্নেই নয়, পার্লামেন্টের আসনসংখ্যার পূর্বাভাসেও আইজেনকটের দল ইয়াশার পার্টি এগিয়ে রয়েছে। এতে নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর...

নির্বাচনী জরিপে নেতানিয়াহুকে টেক্কা আইজেনকটের, আসনেও এগিয়ে বিরোধীরা

ইসরায়েলের আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জনমত জরিপে সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী রাজনীতিক গাদি আইজেনকট। শুধু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতার প্রশ্নেই নয়, পার্লামেন্টের আসনসংখ্যার পূর্বাভাসেও আইজেনকটের দল ইয়াশার পার্টি এগিয়ে রয়েছে। এতে নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত চ্যানেল টুয়েলভের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গাদি আইজেনকটকে বেশি উপযুক্ত মনে করেন ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যোগ্যতার প্রশ্নে আইজেনকটের চেয়ে ১২ শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছেন নেতানিয়াহু। আগের জরিপে দুই নেতার মধ্যে ব্যবধান ছিল ১০ শতাংশ পয়েন্ট। নতুন জরিপে সেই ব্যবধান আরও বেড়েছে।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জরিপে ইসরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্ট নেসেটে দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যার চিত্রও উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টি ২৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির আসনসংখ্যা হতে পারে ২১টি। এ হিসাবে একক দল হিসেবে ইয়াশার পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জরিপে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন টুগেদার পার্টি ১৪টি আসন পেতে পারে। ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস এবং আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট-দুটি দলই পেতে পারে ৯টি করে আসন। এ ছাড়া আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু পার্টি, কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের দল শাস এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের জিউইশ পাওয়ার পার্টি আটটি করে আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আসন বণ্টনের এই হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৫৫টি আসন পেতে পারে। আগের জরিপের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে দুই আসন। বিপরীতে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের আসনসংখ্যা ৫১টিতে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে আরব দল দুটি সম্মিলিতভাবে আরও ১৪টি আসন পেতে পারে। ফলে নেতানিয়াহুর জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৬৯টিতে।

তবে বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা বেশি হলেও তাদের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ইসরায়েলের সংসদীয় রাজনীতিতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতা ও জোট গঠনের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই জরিপে এগিয়ে থাকা বিরোধী দলগুলো শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের ফলাফল এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যোগ্যতা নিয়ে জরিপের আরেকটি প্রশ্নেও নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। উত্তরদাতাদের ৩৯ শতাংশ বেনেটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেশি উপযুক্ত মনে করেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া ২২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাদের মতে বেনেট বা নেতানিয়াহু-কেউই প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য উপযুক্ত নন। এই ফলাফল ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ভিন্নমতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা ও ভোটের হিসাবকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে, সে বিষয়েও জরিপে প্রশ্ন করা হয়। এতে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলি জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন তাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না। অর্থাৎ, অধিকাংশ উত্তরদাতার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থান ভোটের সিদ্ধান্ত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে না।

অন্যদিকে, ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সমর্থনের কারণে লিকুদ পার্টিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা তাদের কমেছে। বিপরীতে ১২ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর দলের প্রতি তাদের সমর্থন বাড়িয়েছে। জরিপের এই ফলাফল থেকে বোঝা যায়, ট্রাম্পের সমর্থন ইসরায়েলি ভোটারদের মধ্যে এককভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে না; বরং এ বিষয়ে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন।

এর আগে গত রোববার নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাঁর অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন ট্রাম্প।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এই জনমত জরিপ নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর চিত্র তুলে ধরেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যোগ্যতার প্রশ্নে আইজেনকটের এগিয়ে থাকা এবং সম্ভাব্য আসন বণ্টনে বিরোধী দলগুলোর শক্তিশালী অবস্থান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তবে জরিপের পূর্বাভাসই যে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হবে, তা নিশ্চিত নয়। ভোটের ফলাফল এবং সরকার গঠনের পরবর্তী সমীকরণই নির্ধারণ করবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কোন দিকে এগোবে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০