ভারতের রাজস্থানে প্রেমিকের আপত্তির জেরে প্রথম স্বামীর ঘরে জন্ম নেওয়া ১৩ বছর বয়সী যমজ দুই ছেলেকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরুর মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন সূত্র ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে ওই নারীকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজস্থানের ডিগ জেলার একটি মাঠ থেকে ওই দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দশেরার দিন সকালে স্থানীয় একটি মাঠে মরদেহ দুটি পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর স্বামী কয়েক বছর আগে মারা যান। এরপর তিনি চার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশী এক পুরুষের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে ওই ব্যক্তি নারীর আগের সংসারের সন্তানদের মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। এমনকি ওই নারীকে বিয়ে করতেও অস্বীকৃতি জানান তিনি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রেমিকের আপত্তি ও বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টি থেকেই যমজ দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো তদন্তাধীন বিষয়। প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ কি না, তা নিশ্চিত হতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জেলার পুলিশ সুপার শরণ গোপীনাথ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় জমে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অপরাধস্থলের আলামত সুরক্ষিত রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে ডগ স্কোয়াড, ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল) দল এবং মোবাইল অফিসার অব ইনভেস্টিগেশন (এমওবি) দল পাঠানো হয়। এ ছাড়া আশপাশের মাঠগুলোতে তল্লাশি চালাতে পুলিশের একাধিক দল গঠন করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। এসব সূত্রের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ড কোথায় ও কীভাবে সংঘটিত হয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়। পরে শিশু দুটির মাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা জানতে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সংগৃহীত আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, দুই কিশোরকে বাড়ির ভেতরেই হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র, পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। এসব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, নিহত দুই কিশোরের মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চিকিৎসকদের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি শিশু দুটির শেষকৃত্য সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে উত্তর প্রদেশের হাতরাস এলাকার নিরঞ্জন সিংয়ের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের চার সন্তানের মধ্যে রয়েছে ১৮ বছর বয়সী এক মেয়ে, ১৬ বছর বয়সী এক ছেলে এবং ১৩ বছর বয়সী যমজ দুই ছেলে। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন ওই নারী। তবে পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন কীভাবে এমন মর্মান্তিক পরিণতির দিকে গড়াল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।