মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
রাজনীতি

প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল, পরে বুঝলাম রক্ষা পেয়েছি: পদত্যাগ প্রসঙ্গে ইশরাক

মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশকে প্রথমে শাস্তি মনে হলেও পরে বুঝতে পেরেছেন, এর মাধ্যমে বড় ধরনের একটি চক্রান্ত থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া সেই নির্দেশকে তিনি এযাবৎকালের সেরা পরামর্শ হিসেবে দেখছেন এবং কোনো দ্বিধা ছাড়াই তা...

প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল, পরে বুঝলাম রক্ষা পেয়েছি: পদত্যাগ প্রসঙ্গে ইশরাক

মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশকে প্রথমে শাস্তি মনে হলেও পরে বুঝতে পেরেছেন, এর মাধ্যমে বড় ধরনের একটি চক্রান্ত থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া সেই নির্দেশকে তিনি এযাবৎকালের সেরা পরামর্শ হিসেবে দেখছেন এবং কোনো দ্বিধা ছাড়াই তা মেনে নিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২৩ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা তুলে ধরেন ইশরাক হোসেন। সেখানে তিনি লেখেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরামর্শ দিয়েছিলেন। শুরুতে বিষয়টিকে শাস্তি বলে মনে হলেও পরে তিনি উপলব্ধি করেন, তার জন্য ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে।

ইশরাকের দাবি, একটি গণমাধ্যম ও কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার পরিকল্পনা করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হতো। এর ফলে তাকে জনসমালোচনার মুখে ফেলাই ছিল সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্য বলে তিনি মনে করেন।

শুধু ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাই নয়, দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরির পরিকল্পনাও ছিল বলে দাবি করেন ইশরাক। তার মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতে পারত, যার পরিণতিতে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ত। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অতীতেও এমন অন্যায় পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নিজের আস্থা প্রকাশ করে ইশরাক লেখেন, তিনি তারেক রহমানের প্রতি গভীর বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী। তার ভাষ্য, আল্লাহর রহমতে প্রধানমন্ত্রী তাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করেন এবং তার জন্য কোনটি কল্যাণকর, তা বিবেচনায় রাখেন। জীবনে বিভিন্ন সময়ে তিনি এর প্রমাণ পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য।

নিজের শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে ইশরাক বলেন, তিনি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই কাজের সূত্র ধরে তৈরি হওয়া একটি ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পেরেছেন বলে মনে করছেন তিনি। এ কারণে পদত্যাগের নির্দেশকে এখন আর শাস্তি হিসেবে দেখছেন না; বরং সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, কথাগুলো কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়ার জন্য লিখছেন না। কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী তাকে যা বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই কথাগুলো মিলিয়ে দেখছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে কথিত চক্রান্তের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেও স্ট্যাটাসে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম বা ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেননি বলে দেওয়া বিবরণে জানা যায়।

এদিকে, দলের ভেতরে কেউ সুযোগসন্ধানী ভূমিকা পালন করছেন কিংবা কোনো পক্ষের সঙ্গে আঁতাত করছেন-এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ইশরাক। তিনি বলেন, দলের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ইশরাক হোসেনের এই বক্তব্যকে ঘিরে তার পদত্যাগের পেছনের কারণ, কথিত চক্রান্ত এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে। তবে তার স্ট্যাটাসে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০