মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সারাবিশ্ব

‘প্যারিস মুসলিমদের শহরে পরিণত হবে’, ম্যাক্রোঁর অভিবাসননীতির সমালোচনায় ট্রাম্প

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অভিবাসননীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, অভিবাসন নিয়ে নিজের পরামর্শ গ্রহণ করলে ফ্রান্সে চলমান বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হতো। একই সঙ্গে প্যারিসের জনমিতিক পরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প...

‘প্যারিস মুসলিমদের শহরে পরিণত হবে’, ম্যাক্রোঁর অভিবাসননীতির সমালোচনায় ট্রাম্প

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অভিবাসননীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, অভিবাসন নিয়ে নিজের পরামর্শ গ্রহণ করলে ফ্রান্সে চলমান বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হতো। একই সঙ্গে প্যারিসের জনমিতিক পরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, প্যারিস খুব শিগগিরই একটি মুসলিম শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে, যদিও শহরটির এমন হওয়ার কথা ছিল না। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশের কারণে ফরাসি রাজধানীর জনসংখ্যার গঠন নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে।

ম্যাক্রোঁকে নিজের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি আগেই ফরাসি প্রেসিডেন্টকে অভিবাসননীতি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ম্যাক্রোঁকে বলেছিলেন, ফ্রান্স বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে বড় ধরনের ভুল করছে। তাঁর দাবি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ইউরোপের অভিবাসননীতি নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থান আবারও সামনে এসেছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় পরিচয় এবং ইউরোপের বড় শহরগুলোর জনমিতিক পরিবর্তন নিয়ে তিনি আগেও বিভিন্ন সময়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তবে প্যারিসের ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার গঠন নিয়ে তাঁর মন্তব্যের পক্ষে কোনো পরিসংখ্যান এই বক্তব্যে উপস্থাপন করা হয়নি।

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও সহিংসতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদের সূচনা হয়। শিক্ষকসংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবনতিশীল অবকাঠামো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়ে অসন্তোষ থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। পরে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নও তাঁদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়।

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কমানো, পেনশন বৃদ্ধি এবং মজুরি বাড়ানো। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও তীব্র হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে বিক্ষোভ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে একটি ঐতিহাসিক টাউন হল আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে রাতের কারফিউ জারি করে কর্তৃপক্ষ। প্যারিসের কিছু এলাকাও এই বিধিনিষেধের আওতায় ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ সংকটের জন্য অভিবাসননীতিকে দায়ী করে ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে। তবে বিক্ষোভের পেছনে অর্থনৈতিক অসন্তোষ, শ্রমিকদের দাবি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত সমস্যার মতো একাধিক কারণের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে দেশটির চলমান পরিস্থিতিকে শুধু অভিবাসননীতির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০