মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
আইন আদালত

রেলওয়ের জমি দখলের অভিযোগে সাবেক এমপি রুহেলের বিরুদ্ধে মামলা

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : রেলওয়ের আড়াই একরের বেশি জমি অবৈধ দখল ও সরকারি বিপুল রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগে মিরসরাইয়ের সাবেক এমপি মাহবুব উর রহমান রুহেলের বিরুদ্ধে মামলা

রেলওয়ের জমি দখলের অভিযোগে সাবেক এমপি রুহেলের বিরুদ্ধে মামলা

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : রেলওয়ের আড়াই একরের বেশি জমি অবৈধ দখল ও সরকারি বিপুল রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগে মিরসরাইয়ের সাবেক এমপি মাহবুব উর রহমান রুহেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভূ-সম্পত্তি নীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে কারখানা ও ভবন নির্মাণের দায়ে দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম-২ জেলা কার্যালয়ে এই মামলা দায়ের করা হয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম-২ জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক তাপছির বিল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পরিবেশবান্ধব সিমেন্ট, বালি ও হলো ব্লক কারখানা স্থাপনের জন্য মিরসরাই উপজেলার পশ্চিম হিংগুলী মৌজায় বাংলাদেশ রেলওয়ের ৩ দশমিক ৭৫৬৪ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি লিজ পেতে আবেদন করেন মাহবুব উর রহমান রুহেল। তবে ইজারা মঞ্জুর হওয়ার আগেই তিনি অবৈধভাবে জমি দখল করে ৬ হাজার ৪৮৯ বর্গফুটের সেমিপাকা কারখানা এবং ৯৯০ বর্গফুটের দ্বিতল অফিস ভবন নির্মাণ শুরু করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া অন্যের নামে কৃষি ও মৎস্য চাষের জন্য লিজ দেওয়া জমি এবং বিএস ৫১২০ দাগের পুকুর ভরাট করে দখলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা শিথিল করে তৎকালীন রেলমন্ত্রীর নির্দেশনায় গ্যাসমিন লিমিটেডকে বিএস ৫১১৯ দাগ থেকে মাত্র ০ দশমিক ৭৪ একর বা ৩২ হাজার ১৩০ বর্গফুট জমি বার্ষিক নবায়নের ভিত্তিতে লিজ দেওয়া হয়।

দুদকের সরেজমিন অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত ০ দশমিক ৭৪ একর জমির বিপরীতে বিএস ৫১১৯ ও ৫১২০ দাগের মোট ২ দশমিক ২৮ একর বা ২২৮ শতক জমি দখলে রেখে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করছেন মাহবুব উর রহমান রুহেল। দখল করা জমিতে কারখানা, অফিসকক্ষ, মসজিদ, অজুখানা এবং ব্লক রাখা ও শুকানোর জন্য বড় মাঠ ও পানির ট্যাংক রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অনুমোদিত ০ দশমিক ৭৪ একর জমির বিপরীতে ভ্যাট ও আয়করসহ মোট ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৯ টাকা ইজারামূল্য পরিশোধ করা হয়।

অন্যদিকে, প্রকৃত দখলে থাকা ২ দশমিক ২৮ একর জমির বিপরীতে সরকারের প্রাপ্য ছিল ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩১ হাজার ৬৪৬ টাকা। এ হিসাবে অতিরিক্ত ১৫৪ শতক জমি অবৈধভাবে দখলে রেখে ব্যবহারের মাধ্যমে ১ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১১৭ টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় দখল ও আত্মসাৎ সংক্রান্ত ঘটনার সময় ধরা হয়েছে ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪২৭ ও ৪৪৭ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, ক্ষতিসাধন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০