রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং এক মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে মস্কোকে কোনো সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নে মেজাজ হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় এবিসি নিউজের এক সাংবাদিককে ‘বোকা’ বলে আক্রমণ করেন তিনি। পাশাপাশি ওই সংবাদমাধ্যমকে সবচেয়ে খারাপ নেটওয়ার্ক বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে এবিসি নিউজের এক সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডের মুক্তির বিনিময়ে রাশিয়াকে কোনো ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না। প্রশ্নটি শুনে সাংবাদিকের উদ্দেশে ট্রাম্প পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি বোকা? আপনি কোথায় কাজ করেন?’ সাংবাদিক এবিসি নিউজের নাম জানালে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি বোকা। আর আপনার নেটওয়ার্ক সবচেয়ে খারাপ।’ এরপরও সাংবাদিক মূল প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে ট্রাম্প সরাসরি জবাব না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এর আগের দিন, রোববার, রাশিয়া থেকে মুক্তি পান ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ড। গত দুই মাসের মধ্যে রুশ কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিক তিনি। হাবার্ড যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হাতে আটক হন তিনি। ইউক্রেনের পক্ষে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে কাজ করার অভিযোগে গত অক্টোবরে রাশিয়ার একটি আদালত তাঁকে প্রায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেন।
হাবার্ডের মুক্তির বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে আসে, যখন রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল। সম্প্রতি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পরই হাবার্ডের মুক্তির ঘোষণা আসে। তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানবিক বিবেচনায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, হাবার্ডের মুক্তির বিনিময়ে রাশিয়াকে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তাঁকে সম্মান জানিয়ে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো কিছু দাবি করেনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। হাবার্ডের মুক্তির জন্য কোনো ধরনের ‘বিনিময়’ বা সমঝোতার প্রয়োজন হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ অক্টোবর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন, যার মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর আরোপিত বেশ কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রুশ পণ্য এবং রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
হোয়াইট হাউসের দাবি, রাশিয়ার ওপর এসব নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত, হাবার্ডের মুক্তি এবং রাশিয়াকে কোনো সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না-এই তিনটি বিষয় ঘিরে সাংবাদিকের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দেওয়ায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।