পাকিস্তানের সাবেক অভিনেত্রী জারনিশ খান জানিয়েছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে স্বপ্নে দেখার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁকে অভিনয় ছেড়ে ধর্মীয় জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করেছিল। ২০২৩ সালে স্বামীর সাথে ওমরাহ পালনের সময় তাঁর জীবনে এই পরিবর্তনের সূচনা হয়। পরে এক সাক্ষাৎকারে বিনোদনজগৎ ছেড়ে আসার পেছনের কারণ তুলে ধরেন তিনি।
ডন উর্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জারনিশ বলেছিলেন, অভিনয়ে সাফল্য পাওয়ার পরও তাঁর মনে এক ধরনের অপূর্ণতা কাজ করত। খ্যাতি ও অর্জনের মধ্যেও জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন জাগত। সেই সময় স্বামীর সাথে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করেন তিনি।
জারনিশের ভাষ্য, পবিত্র স্থানে অন্যদের ইবাদত ও কান্না দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আল্লাহর কাছে কীভাবে ক্ষমা চাইবেন, তা নিয়ে ভাবতে থাকেন। এই সময়ের একটি স্বপ্নের অভিজ্ঞতা তাঁর সিদ্ধান্তে গভীর প্রভাব ফেলে বলে জানান তিনি।
ডায়ালগ পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিরাজের ঘটনা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন জারনিশ। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, স্বপ্নে তিনি মহানবী (সা.)-কে দেখেন এবং ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে নির্দেশনা পান। ঘুম ভাঙার পর কয়েক ঘণ্টা কেঁদেছিলেন বলে জানান এই সাবেক অভিনেত্রী। স্বপ্নের এই বিবরণ তাঁর নিজের বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভাষ্য।
এরপর নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ছবি ও রিলস সরিয়ে দেন জারনিশ। তিনি জানান, বিনোদনজগতে আর কাজ না করার সিদ্ধান্ত তখনই নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকতে আল্লাহর সাহায্য চেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার পর হিজাব পরা শুরু করেন এবং ধর্মীয় অনুশীলনকে জীবনের অগ্রাধিকার দেন জারনিশ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবর্তনটি শুধু পোশাকে সীমাবদ্ধ ছিল না, নিজের জীবনযাপন ও ভবিষ্যতের পথ নিয়েও নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।