ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শহীদ ওসমান হাদির লড়াইয়ের দৃঢ়তা ও তীব্রতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির রাজনৈতিক লড়াই ও তার কবরকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং দলটির শরিকদের একটি অংশের যে রাজনীতি দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।’ হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে না পারার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তার কবর নিয়ে কটাক্ষ করার আগে নিজেদের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্বের কথা ভাবা উচিত।’
এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘কিছু বিষয় আপসের ঊর্ধ্বে। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ওসমান হাদির আজাদীর লড়াই ছিল তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অন্যতম প্রধান দিক। আমার বিবেচনায়, এই প্রশ্নে হাদির লড়াইয়ের দৃঢ়তা ও তীব্রতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লড়াইয়ের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী।’
তবে একজন শহীদের সংগ্রামকে সম্মান জানাতে গিয়ে আরেকজন শহীদের স্মৃতিকে অসম্মান করার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন দলটির এ মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার তার যথাস্থানে থাকুক। একইভাবে শহীদ ওসমান হাদির কবরও যথাযথ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হোক। কারও কবরকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা বিতর্কের হাতিয়ার বানানো উচিত নয়।’
অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে পাটওয়ারী লেখেন, ‘হাসিনা সরকারের আমলে কবর, স্মৃতিচিহ্ন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতীক ভাঙচুরের রাজনীতি দেখেছি। সেই রাজনীতির পুনরাবৃত্তি আমরা আর চাই না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমরা যেন নিজেরাই আরেকটি অন্যায়ের পথ তৈরি না করি।’
ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে পাটওয়ারী বলেন, হাদির রাজনৈতিক আদর্শ, আজাদীর সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ নিয়ে যুক্তিতর্ক হতে পারে। কিন্তু তার কবর নিয়ে কটাক্ষ কিংবা অসম্মান করার দুঃসাহস দেখাবেন না।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘কবর নিয়ে নোংরা রাজনীতি নয়—শহীদের হত্যার বিচার চাই, ইতিহাসের মর্যাদা চাই, আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশ চাই।’









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।