মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
রাজনীতি

‘জামায়াতি আদর্শের বিস্তার হয়েছে’ অভিযোগ করে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ

দলে জামায়াতি আদর্শের বিস্তার লাভ করেছে অভিযোগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মো. আবদুর রহমান। তিনি এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠকের দায়িত্বে ছিলেন।

‘জামায়াতি আদর্শের বিস্তার হয়েছে’ অভিযোগ করে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ
ছবি: সংগৃহীত

দলে জামায়াতি আদর্শের বিস্তার লাভ করেছে অভিযোগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মো. আবদুর রহমান। তিনি এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠকের দায়িত্বে ছিলেন।

গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে পদত্যাগের এই ঘোষণা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী। 

পদত্যাগপত্রে আবদুর রহমান বলেন, ‘ঘোষিত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, নতুন বন্দোবস্তের প্রত্যয় এবং বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি অঙ্গীকার আমাকে এনসিপিকে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ করছি, এনসিপির নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সাথে গঠিত নির্বাচনী ও রাজনৈতিক জোটের ফলে কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত জামায়াতি আদর্শের বিস্তার লাভ করেছে। জামায়াত প্রশ্নে দলের বহু প্রতিষ্ঠাকালীন মেধাবী, পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব এনসিপি ত্যাগ করেছেন। রাজনৈতিক জোট এবং আদর্শিক জোট এক হবে না, এমন প্রত্যাশা থেকে আমি এনসিপির সাথে থেকে যাই। কিন্তু দিনে দিনে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে দ্বিচারিতা যেন বেড়েই চলেছে।’ 

জামায়াতের সাথে এনসিপির রাজনৈতিক জোট এখন আদর্শিকভাবেও একাকার হয়ে গেছে অভিযোগ করে তিনি লিখেছেন, ‘দলের একজন কর্মী হিসেবে এটি আমার মৌলিক আদর্শ ও চেতনার সাথে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। একই সাথে সহকর্মীদের বিমাতাসুলভ আচরণ (বিশেষ করে ঐতিহাসিক বিষয়ে আমার মতামতের জন্য মুজিববাদী ট্যাগ দেওয়া) আমার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করে, যা সহকর্মীদের ব্যাপারে অস্বস্তিকর মনোভবের উদ্ভব ঘটায়। রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বিষয়ে এনসিপির নেতা-কর্মীদের অবস্থান বর্তমানে জামায়াত-শিবিরের অবস্থানের সাথে একাকার হয়ে গেছে। ফলে আদর্শিক প্রশ্নেও এনসিপির স্বতন্ত্র অবস্থান বর্তমানে যেন জামায়াতের বয়ানের দ্বারাই আবর্তিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় আমার পক্ষে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা নৈতিক ও আদর্শিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে আমি এনসিপির সাথে পথচলা এখানেই সমাপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব ও পদ থেকে স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে পদত্যাগ করছি।’

প্রসঙ্গত, একসময় ছাত্রলীগের (এখন নিষিদ্ধ) রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন আবদুর রহমান। ২০১৯ সালে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি বর্ধিত হলে তাকে কমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়েছিল।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০