মূল লেখায় যান
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ · ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

মিরপুরে চালু দুই পোশাক কারখানায় হামলা, ভাঙচুরে আহত নিরাপত্তাকর্মী

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে চালু থাকা দুটি পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

মিরপুরে চালু দুই পোশাক কারখানায় হামলা, ভাঙচুরে আহত নিরাপত্তাকর্মী
ছবি: সংগৃহীত

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে চালু থাকা দুটি পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে মিরপুর-২-এর বড়বাগ এলাকায় সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেড ও দেশওয়ান অ্যাপারেলসে এসব ঘটনা ঘটে। এতে সিরাজগঞ্জ ফ্যাশনের এক নিরাপত্তাকর্মী কাচের আঘাতে আহত হয়েছেন।

কারখানা দুটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঘটনার সময় শ্রমিকেরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। এ সময় বাইরে থেকে একদল লোক এসে কারখানার সামনে জড়ো হয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রেখে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে দেশওয়ান অ্যাপারেলসের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কারখানাটির সামনের অংশের কাচ ভাঙা। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি কারখানার সামনে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে সামনের কাচ ভেঙে যায়। এ সময় কারখানার শ্রমিকেরা নিচে নেমে এসে প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার চেষ্টা করেন।

দেশওয়ান অ্যাপারেলসের মানবসম্পদ কর্মকর্তা সামিরুদ্দীন নওশাদ বলেন, হামলাকারীরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে ইট ছুড়ে কাচ ভাঙচুর করেন। শ্রমিকেরা নিচে নেমে এসে তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে হামলাকারীরা পাশের সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের দিকে চলে যান।

নওশাদের ভাষ্য, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ বলছিলেন, দেশওয়ান অ্যাপারেলস বন্ধ হয়ে গেছে, অথচ পাশের কারখানায় কাজ চলছে। এরপর তাঁরা পাশের কারখানায় গিয়ে ভাঙচুর চালান।

দেশওয়ান অ্যাপারেলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের দাবি, হামলাকারীরা তাঁদের কারখানার শ্রমিক নন। পণ্য সরবরাহের সময় ঘনিয়ে আসা এবং শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারখানাটি চালু রাখা হয়েছিল। শ্রমিকেরাও এ বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং নিজেরাই প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার চেষ্টা করেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আবার কাজ শুরু হয়।

সিরাজগঞ্জ ফ্যাশনে ব্যাপক ভাঙচুর, আহত নিরাপত্তাকর্মী

পাশের সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডে গিয়ে দেখা যায়, কারখানাটির নিচতলার অভ্যর্থনাকক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সেখানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর, চেয়ার-টেবিল, কাচ এবং শ্রমিকদের ডিজিটাল হাজিরা যন্ত্র ভেঙে ফেলা হয়েছে। কারখানার চতুর্থ তলাতেও ভাঙচুরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ সময় কাচের আঘাতে এক নিরাপত্তাকর্মীর হাত কেটে যায়।

প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এক থেকে দেড় শ লোক কারখানাটিতে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করেন।

সিরাজগঞ্জ ফ্যাশনের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, সকালে শ্রমিকেরা কারখানায় কাজ করছিলেন। হঠাৎ বাইরে থেকে শতাধিক লোক এসে হামলা ও ভাঙচুর শুরু করেন। হামলাকারীরা আসার পর শ্রমিকদের কারখানা থেকে নামিয়ে দেওয়া হলেও ভাঙচুর চলতে থাকে।

সিরাজুল ইসলামের দাবি, হামলাকারীদের অনেকের গলায় পরিচয়পত্র ঝুলতে দেখা গেছে। তবে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর ধারণা, শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে কিছু কারখানা চালু থাকায় সেগুলোতে হামলা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় নিজেদের কারখানার শ্রমিকেরা জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের প্রধান ফটকে সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে লিখিত নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

ভাঙচুরের কোনো কারণ দেখছে না পুলিশ

এদিকে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস, উত্তর) মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি-সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে কাজ চলছে। আগের দিন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে কাজ চলমান থাকায় রাস্তা অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর কিংবা কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের কোনো কারণ তাঁরা দেখছেন না।

শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই মিরপুরে কারখানা দুটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০