গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ঢাকা রংপুর মহাসড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ না করেই প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে মুনসুর আলীর বিরুদ্ধে। ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তিনি ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ জমির বিপরীতে ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩২ টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী রেখা বেগমসহ অন্য অংশীদারদের অভিযোগ, সাসেক প্রকল্প-২ কর্তৃপক্ষ এবং জমির অন্যান্য অংশীদারদের আপত্তি উপেক্ষা করে মুনসুর আলীর নামে অধিগ্রহণের টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ এলএমসি মামলা নম্বর ২৭০/২০২৩-২০২৪, এলএ মামলা নম্বর ১১/২০১৯-২০২০ এবং আদালতের রায়ের নির্দেশনাও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
এদিকে, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কয়েকজন সাংবাদিক অর্থের বিনিময়ে মনগড়া তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব সংবাদ প্রকাশের পর পলাশবাড়ীর সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
প্রাপ্ত কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, পলাশবাড়ী পৌর শহরের নুনিয়াগাড়ী মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর ১৬, আরএস খতিয়ান নম্বর ২৫ এবং জেএল নম্বর ৬৯-এর সাবেক ৭৯ ও ৮০ নম্বর দাগে মুনসুর আলীর বাবা মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ৪২৫ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ১৯৫৩ সালের ২১ জানুয়ারি মোট ১২৭ শতাংশ জমির মালিকানা ছিল।
১৯৫৭ ও ১৯৫৮ সালে সড়ক বিভাগের অধিগ্রহণের পর ১৯৬৯ সালের ১৯ নভেম্বর ০১/৬৯ নম্বর মামলার মাধ্যমে ওই জমির ৩২ শতাংশ অধিগ্রহণ করা হয়। এতে অবশিষ্ট থাকে ৯৫ শতাংশ জমি।
পরবর্তী সময়ে ২০০২ সালের ১৮ মার্চ ২১৬৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ছোট ছেলে আল মামুনকে ৩৯ শতাংশ জমি এবং একই তারিখে ২১৭০ নম্বর দলিলে স্ত্রী হালিমা বেগমকে ৩ শতাংশ জমি দেওয়া হয়। এ ছাড়া একই বছরের ২৪ মার্চ ২১৯৪ নম্বর দলিলে দুই মেয়ে রোকেয়া বেগম ও শাহিনা পারভীনকে ৫ শতাংশ করে মোট ১০ শতাংশ জমি দেওয়া হয়।
এভাবে ছোট ছেলে, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে মোট ৫২ শতাংশ জমি দেওয়ার পর মোফাজ্জল হোসেনের নামে অবশিষ্ট থাকে ৪৩ শতাংশ জমি। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অবশিষ্ট জমির বিপরীতে দুই ছেলে মোকসেদ আলী ও মুনসুর আলী সমান অংশ পাওয়ার কথা থাকলেও ২০০২ সালের ২৪ মার্চ ২১৯৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তারা ৪৩ শতাংশের পরিবর্তে ৭০ শতাংশ জমি দলিল করে নেন।
অভিযোগকারীদের হিসাব অনুযায়ী, মোফাজ্জল হোসেনের অবশিষ্ট ৪৩ শতাংশ জমিতে দুই ছেলের প্রত্যেকের প্রাপ্য অংশ ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে মুনসুর আলী ২০১২ সালের ২০ মার্চ ১৬১৯ নম্বর দলিলে মমিনুল ও মাজাহারুলের কাছে ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। পরে ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি ৬৮১ নম্বর দলিলে ৪ শতাংশ এবং একই বছরের ১৬ এপ্রিল ২৪৫৩ নম্বর দলিলে আরও ৮ শতাংশ জমি হস্তান্তর করেন।
এসব হিসাব অনুযায়ী, তার কাছে অবশিষ্ট থাকার কথা সাড়ে ৫ শতাংশ জমি। অথচ তিনি ৬ শতাংশের বেশি জমির ওপর বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা রংপুর মহাসড়কের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ জমির বিপরীতে টাকাও উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
তাদের অভিযোগ, জমির প্রকৃত পরিমাণ ও মালিকানা যাচাই না করে কেবল কাগজপত্রের ভিত্তিতে অধিগ্রহণের টাকা ছাড় করা হয়েছে। এ ঘটনায় টাকা উত্তোলনকারী এবং এর সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, বিষয়টি যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জালিয়াতির মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।