মূল লেখায় যান
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ · ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
রাজনীতি

শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হলে ক্ষতি বাড়বে: জামায়াত আমির

শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হলে ক্ষতি বাড়বে: জামায়াত আমির

শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। 

পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে যত বিলম্ব হবে, শিল্প খাতের ক্ষতি ততই বৃদ্ধি পাবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। 

ভিডিও বার্তায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনের কারণে বহু কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং দু-এক জায়গায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

গাজীপুরের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুরে গাইবান্ধার তৌফিক নামে এক পোশাকশ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

তৈরি পোশাক খাতকে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এই খাতে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার দ্রুত এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাবে বলে তারা প্রত্যাশা করেছিলেন।

জামায়াত আমির বলেন, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বল্প বেতনে জীবনধারণ করা শ্রমিকদের জন্য অসম্ভব। তাদের দাবি বিবেচনা করে সব পক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন ছিল, যা সরকার এখনো করতে পারেনি। শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে কথাটি যেমন সত্য, তেমনি শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে—এই বাস্তবতাও মনে রাখতে হবে। 

জামায়াতের আমির বলেন, এই শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার যেন দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া যত বিলম্বিত হবে, এই খাতের ক্ষতি ততই বৃদ্ধি পাবে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানী অনেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগের অপব্যবহার করার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা ও সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, আপনারা নিজেদের প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখুন। আমরা আপনাদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আছি। শিল্প বেঁচে থাকলেই আপনারা বেঁচে থাকবেন। 

একইসাথে মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিজেদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করুন। তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণটা সহজ হয়ে যাবে।

বক্তব্যের শেষে নিহত শ্রমিক তৌফিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সবাই ভালো থাকবেন। তৌফিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আরও কথা হবে, আরও দেখা হবে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০