মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

স্থানীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের ব্যয় বহনসহ ৫ দাবি জিডিডিএফের

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেশীয় পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, তাঁদের যাতায়াত ও খাবারের খরচ বাবদ কমপক্ষে তিন দিনের আর্থিক বরাদ্দসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে গ্লোবাল ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (জিডিডিএফ)।

স্থানীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের ব্যয় বহনসহ ৫ দাবি জিডিডিএফের
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেশীয় পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, তাঁদের যাতায়াত ও খাবারের খরচ বাবদ কমপক্ষে তিন দিনের আর্থিক বরাদ্দসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে গ্লোবাল ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (জিডিডিএফ)।

একই সাথে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে নির্বাচন কমিশনের সহযোগী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং কমিশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের বাংলাদেশ আইন সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত সাধারণ সভা ও আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। সভায় ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সভায় জানানো হয়, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৩৬ হাজার প্রশিক্ষিত পর্যবেক্ষকের তালিকা প্রস্তুত করেছিল জিডিডিএফের নেটওয়ার্ক। তবে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে মাঠপর্যায়ে মাত্র ১০ হাজার পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা সম্ভব হয়েছে। এ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আর্থিক সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির ওপর গুরুত্ব দেন সংগঠনটির নেতারা।

জিডিডিএফের দাবি, নির্বাচন পর্যবেক্ষণকে কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ এবং ভোটার দিবসসহ নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এসব কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দেরও দাবি জানানো হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জিডিডিএফকে পেশাদার, নিরপেক্ষ ও কার্যকর জাতীয় নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সদস্য সংগঠনগুলোর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সব নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দেশীয় পর্যবেক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কমিশনের সাথে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ রশীব আহাম্মেদ হাওলাদার বলেন, পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সমন্বিত ও সামগ্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে জিডিডিএফ। তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নাগরিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোও তাদের লক্ষ্য।

কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মাদ পারভেজ রেজা বাজেট ও আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যয়বহুল হলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এটি অপরিহার্য। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যকর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের আর্থিক সহযোগিতা ও স্বীকৃতি প্রয়োজন।

অন্যদিকে, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুল হাসান তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে সংগঠনটির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

জিডিডিএফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৬০টি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাসহ দেশের আট বিভাগের ২৬০টি তৃণমূলভিত্তিক নাগরিক সংগঠন নিয়ে গঠিত এই নেটওয়ার্ক। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, সুশাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও টেকসই উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০