মূল লেখায় যান
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ · ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

যেকোনো সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে সালমান মুক্তাদিরকে!

সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে আলোচনা যেন থামছেই না। স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের পর বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসা এবং সর্বশেষ টকশোতে সরকারের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

যেকোনো সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে সালমান মুক্তাদিরকে!
ছবি: সংগৃহীত

সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে আলোচনা যেন থামছেই না। স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের পর বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসা এবং সর্বশেষ টকশোতে সরকারের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, সালমান মুক্তাদিরকে কি যেকোনো সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে?

তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কাছে থাকা নথি, তথ্য ও বক্তব্য যাচাই করার পাশাপাশি হামলার প্রকৃত কারণ এবং তার তোলা রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিও খতিয়ে দেখা যেতে পারে। সালমান নিজেও বলেছেন, তদন্তের স্বার্থে সরকার চাইলে তাকে তলব করতে পারে।

এক ঘটনায় কেন বদলেছে বক্তব্য?

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে সালমান মুক্তাদির দাবি করেছিলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তার স্টুডিওতে হামলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে ওই অবস্থান থেকে সরে আসেন সালমান।

এরপর সোমবার রাতে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে এসে আবারও ঘটনাটি নিয়ে সরব হন তিনি। দাবি করেন, তার কাছে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও নথি রয়েছে। একই সাথে বিএনপির বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করার পাশাপাশি সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

ফলে একই ঘটনা নিয়ে ভিন্ন সময়ে ভিন্ন বক্তব্য কেন—এ প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তদন্তকারীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানতে চাইতে পারেন, প্রথম অভিযোগের ভিত্তি কী ছিল, তিনি কার কাছ থেকে তথ্য পেয়েছিলেন এবং তার কাছে থাকা কোনো নথি বা প্রমাণ ওই অভিযোগকে সমর্থন করে কি না।

চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রমাণ কোথায়?

সালমানের প্রথম দিকের বক্তব্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল চাঁদাবাজির অভিযোগ। তিনি দাবি করেছিলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছিল।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, সালমানের বক্তব্য অনুযায়ী তার কাছে কেউ সরাসরি চাঁদা দাবি করেনি।

দুই পক্ষের বক্তব্যের এই পার্থক্যও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

সালমানের কাছে যদি কল রেকর্ড, বার্তা, অডিও-ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য কিংবা অন্য কোনো নথি থেকে থাকে, সেগুলো যাচাই করেই অভিযোগটির সত্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।

হামলার আসল লক্ষ্য কে ছিল?

ঘটনার আরেকটি বড় প্রশ্ন—হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য কি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ছিল?

পুলিশ ও প্রশাসনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে সামনে আসা তথ্য অনুযায়ী, ইসিবি চত্বরের পাশে ওই জমি নিয়ে আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিউ গিনি প্রপার্টিজ ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। জমির মালিকানা ও চলাচলের রাস্তা নিয়েও বিরোধের কথা এসেছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই বিরোধের জেরেই আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। ওই সময় প্রকল্প এলাকায় থাকা সালমানের টিনশেড স্টুডিওও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তাই তদন্তে এখন প্রশ্ন হতে পারে—সালমান জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আগে থেকে জানতেন কি না, স্টুডিও নির্মাণের আগে জমির কাগজপত্র যাচাই করেছিলেন কি না এবং সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সাথে তার যোগাযোগ ছিল কি না।

থানায় মামলা নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য

মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াতেও ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেও সালমান থানায় সুনির্দিষ্ট মামলা করেননি। বিপরীতে সালমান দাবি করেন, হামলার রাতেই তিনি ভোর পর্যন্ত থানায় অবস্থান করে মামলা করার চেষ্টা করেছিলেন এবং পুলিশ প্রথমে মামলা নেয়নি।

পরে মামলা গ্রহণ করা হয় এবং ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্যও সামনে আসে।

ফলে ঘটনার রাতে থানায় আসলে কী ঘটেছিল, সালমান কখন সেখানে গিয়েছিলেন, কী অভিযোগ করেছিলেন এবং কখন মামলা গ্রহণ করা হয়—এসব তথ্যও যাচাই করা হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে থানার নথি, মামলার সময়, এজাহারের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সাথে সালমানের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা হলে প্রকৃত ঘটনা আরও পরিষ্কার হতে পারে।

টকশোর বক্তব্যও কি তদন্তে আসবে?

সালমান মুক্তাদিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। ফলে তার দেওয়া কোনো বক্তব্য দ্রুত বড় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যায়।

এ কারণে তিনি যে অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে করেছেন, সেগুলোর ভিত্তি এবং সম্ভাব্য প্রভাবও তদন্তের আলোচনায় আসতে পারে।

বিশেষ করে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করার পর অবস্থান পরিবর্তনের কারণ কী—সেটিও জানতে চাইতে পারেন তদন্তকারীরা।

সর্বশেষ টকশোতে সালমানের দাবি, তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি রয়েছে। এখন সেই নথিগুলো কী এবং সেগুলোর সাথে হামলার ঘটনার কী সম্পর্ক—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।

অর্থের উৎস নিয়েও অনুসন্ধানের কথা

এদিকে সালমান মুক্তাদিরের অর্থের উৎস নিয়েও অনুসন্ধানের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা বিভাগ তার ব্যাংক হিসাব, অ্যাকাউন্ট খোলার কাগজপত্র ও লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে।

সালমান অবশ্য দাবি করেছেন, তার উপার্জিত সব অর্থ বৈধ।

তার শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকটি গুদাম শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে সিলগালা করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে সালমান ও তার শ্বশুর দুজনেই তাদের সম্পর্কের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

এসব বিষয়ের সাথে স্টুডিওতে হামলার সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাই তদন্তের ফলাফল ছাড়া কোনো বিষয়কে হামলার কারণ হিসেবে চূড়ান্তভাবে দেখার সুযোগ নেই।

ভুক্তভোগী সালমান, আবার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীও?

স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সালমান নিজেও একজন ভুক্তভোগী। তার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত বা লুট হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তবে একই সাথে ঘটনার আগে-পরে তার বক্তব্য, তিনি যেসব অভিযোগ করেছেন এবং তার কাছে থাকা তথ্য তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সেটিকে কেবল কোনো রাজনৈতিক অভিযোগের কারণে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং হামলার পুরো ঘটনা পুনর্গঠন এবং তার বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবেও বিষয়টি দেখা যেতে পারে।

তাহলে কি যেকোনো সময় ডাক আসতে পারে?

সব মিলিয়ে সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে এখন কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে—হামলার প্রকৃত কারণ কী, বিএনপির বিরুদ্ধে তার প্রথম অভিযোগের ভিত্তি কী ছিল, পরে কেন তিনি অবস্থান পরিবর্তন করলেন, জমি নিয়ে বিরোধের সাথে হামলার কী সম্পর্ক, মামলা দায়েরের সময় কী ঘটেছিল এবং তার কাছে থাকা নথি ও তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য।

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্তকারীরা তাকে যেকোনো সময় জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন—এমন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সালমান নিজেও তদন্তের স্বার্থে তাকে তলব করা হলে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন।

নিউজনাউ/২০২৬

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০