পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর প্রায় ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর রেখে যাওয়া বিপুল সম্পত্তির ভাগ পাননি সন্তানেরা। এবার বাবার প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি বুঝে পেতে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন। ফ্যামিলি ট্রাস্টের অর্থ বণ্টন না করায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
আদালতে জমা দেওয়া নথিতে প্যারিস অভিযোগ করেন, মাইকেল জ্যাকসন জীবিত থাকতেই চেয়েছিলেন, তাঁর তিন সন্তান প্যারিস, প্রিন্স ও বিগি জ্যাকসন ২১ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর থেকে পারিবারিক ট্রাস্টের আয় পেতে শুরু করবেন। কিন্তু নির্ধারিত বয়স পার হলেও এখন পর্যন্ত ট্রাস্ট থেকে কোনো অর্থ পাননি তাঁরা।
প্যারিসের দাবি, বাবার মৃত্যুর ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও ফ্যামিলি ট্রাস্টের অর্থ বণ্টন করা হয়নি। ২০১১ সালে আদালতকে জানানো হয়েছিল, তহবিল বণ্টনের জন্য আবেদন করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছরেও সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি।
তিনি বলেন, বাবার কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশাল সম্পত্তি গড়ে উঠেছে। সম্পত্তি ও নেভারল্যান্ড র্যাঞ্চ বিক্রি এবং সনির সাথে চুক্তিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেটে এখন প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ রয়েছে। এরপরও সন্তানদের প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্যারিস আরও জানান, তাঁর দুই ভাইসহ তাঁদের বয়স এখন ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। চার মাস পর প্রিন্সের বয়স ৩০ হবে, আগামী এপ্রিলে প্যারিসের ২৯ এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে বিগির ২৫ বছর পূর্ণ হবে। এরপরও এস্টেটের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা তাঁদের অর্থ আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁদের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানার কারণে শেষ পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
তবে প্যারিসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে মাইকেল জ্যাকসন এস্টেট কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, করসংক্রান্ত আইনি জটিলতা পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাস্টের অর্থ ছাড় করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আদালতের রায়ে জরিমানার পরিমাণ কিছুটা কমলেও জটিলতা এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
এস্টেট কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, অর্থ আটকে রাখার অভিযোগ ভিত্তিহীন। নিয়ম অনুযায়ী, মাইকেল জ্যাকসনের সন্তানেরা ৩০ বছর বয়সে না পৌঁছানো পর্যন্ত ট্রাস্ট থেকে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ নেই। আইনি জটিলতা মিটে গেলে নিয়ম মেনেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।