মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সারাবিশ্ব

মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত রাশিয়া-ইউক্রেন

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে স্থানীয় পর্যায়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মেলানিয়া ট্রাম্পের দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য...

মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত রাশিয়া-ইউক্রেন

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে স্থানীয় পর্যায়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মেলানিয়া ট্রাম্পের দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় ওলেশকি শহরে সাময়িকভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। এর ফলে শহরটিতে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, অসুস্থ ও বয়স্ক বাসিন্দাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং যারা নিরাপদ স্থানে চলে যেতে চান, তাদের সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মেলানিয়া ট্রাম্প ওলেশকির পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শহরটিতে এখনো যেসব মানুষ বসবাস করছেন, তাদের বড় একটি অংশই বয়স্ক। তাদের জরুরি চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র প্রয়োজন। এ ছাড়া শহরটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। সড়কগুলোতে মাইন থাকার কারণে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ এবং নিয়মিত সামরিক হামলার আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

মেলানিয়া বলেন, তার মধ্যস্থতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ না থাকলে ওলেশকিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং সেখানকার বয়স্ক বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো না। তার মতে, যুদ্ধের মধ্যে আটকে পড়া সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা এবং তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফার্স্ট লেডির দপ্তরের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, মেলানিয়া ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধি রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে যুদ্ধবিরতির শর্ত নির্ধারণ করেছেন। আলোচনায় দুই পক্ষের লক্ষ্য, কারিগরি প্রক্রিয়া, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং সামগ্রিক কার্যপদ্ধতি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। এ উদ্যোগে মেলানিয়া ট্রাম্পকে ‘একক মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের বেসামরিক প্রতিনিধিরা ওলেশকি শহরের বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের প্রয়োজন ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন। বিশেষ করে কারা জরুরি চিকিৎসা বা মানবিক সহায়তা চান এবং কারা শহর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে আগ্রহী, তা নির্ধারণ করা হবে। যারা শহর ছাড়তে চাইবেন, তাদের নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য সমন্বিত সহায়তা ও পরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে।

মেলানিয়া ট্রাম্প জানান, ওলেশকির বাসিন্দাদের কেউ রাশিয়ায় যেতে চাইতে পারেন, আবার কেউ ইউক্রেনের অন্য কোনো নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিতে আগ্রহী হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির ও পরিবারের নিজস্ব সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জোরপূর্বক কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানোর পরিবর্তে তাদের পছন্দ অনুযায়ী নিরাপদে স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে একটি নিরপেক্ষ মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধ করার কাজে যুক্ত করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়। এর মাধ্যমে স্থানান্তর কার্যক্রমে প্রতিটি পরিবারের ইচ্ছাকে যথাযথভাবে সম্মান করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মেলানিয়া। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তারও নথি সংরক্ষণ করা হবে।

মেলানিয়া ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন চলাকালে আয়োজিত তার ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তিগত আলোচনার সময় ওলেশকি শহরের সংকটের বিষয়টি তার নজরে আসে। এরপর তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগ নেন এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত যোগাযোগের মাধ্যমগুলো কাজে লাগান।

এর আগে দুই দেশের মধ্যে ছয় দফা উদ্যোগের মাধ্যমে ৩৪ শিশুকে তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত করার কাজে ওই যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মেলানিয়া জানান। এবারের উদ্যোগটি আগের প্রচেষ্টার তুলনায় আরও জটিল, কারণ এতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, মাইন অপসারণসংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে স্থানান্তরের মতো একাধিক বিষয় জড়িত।

মেলানিয়া আরও জানান, এবারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেন দ্রুত প্রতিনিধি দল নিয়োগ করেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছে, যাতে যুদ্ধের ঝুঁকির মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা যায়।

তবে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত সময় থেকে দুই পক্ষের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা, নিরাপদ চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ওপর। পরিকল্পনাটি সফল হলে ওলেশকির আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগ কমানো এবং তাদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০