মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

সাড়ে ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে চকবাজারের মার্কেটের আগুন

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের রুই হাট্টা সড়কের একটি মার্কেটে লাগা আগুন সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সাড়ে ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে চকবাজারের মার্কেটের আগুন
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের রুই হাট্টা সড়কের একটি মার্কেটে লাগা আগুন সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সিরাজুম মুনিরা জামে মসজিদের বিপরীত পাশে অবস্থিত মার্কেটটিতে আগুন লাগার পর ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উৎসুক মানুষ। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে দেখা যায়। আগুনের তীব্রতা কমে এলেও ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। এ সময় আগুনের উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

এম এম লোদারের খোরশেদ আলম জানান, ভবনটির ছয়তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা সাততলায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ছয় ও সাততলায় থাকা সবকিছু পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, ভবনটি ১০ তলা। প্রথম থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত বিভিন্ন দোকান ও শোরুম রয়েছে। পঞ্চম থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত ব্যবহার করা হয় গুদাম হিসেবে।

ভবনটির নিচতলায় কসমেটিকসের দোকান রয়েছে ব্যবসায়ী সাকলাইন নাদিমের। তিনি জানান, তাঁর দোকানের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ছয়তলায় থাকা গুদামে আগুন লেগেছে। ভেতরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সাকলাইন নাদিমের ভাষ্য অনুযায়ী, ছয় ও সাততলার গুদামগুলোতে কসমেটিকস, চামড়ার ব্যাগ, লাইটার, চশমা ও স্টেশনারিসহ বিভিন্ন পণ্য রাখা ছিল।

নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন কর্মীরা

ব্যবসায়ী সাকলাইন নাদিম বলেন, বিকেল ৫টার দিকে তিনি মার্কেটে আগুন লাগার খবর পান। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁর ধারণা, আসরের নামাজের পরপরই আগুন লাগে। এরপর ছয়তলার গুদামে থাকা কর্মীরা নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সফল না হওয়ায় পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।

ভবনটির একটি দোকানের কর্মী রুবেল জানান, বিকেল ৪টার দিকে আগুন লাগে। তাঁরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন। তবে আগুন নেভানোর বদলে শুধু ধোঁয়া বের হচ্ছিল। পরে তাঁদের একজন ফায়ার সার্ভিসে ফোন করেন।

পানির সংকটে মসজিদ থেকে পানি সংগ্রহ

ব্যবসায়ীদের দাবি, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত রওনা দিলেও চকবাজারের যানজট ও মানুষের ভিড় পেরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। প্রথমে একটি গাড়ি সেখানে পৌঁছায়। তবে গাড়িতে থাকা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ছয়তলায় পানি দেওয়ার পরই তা শেষ হয়ে যায়।

পরে পানির উৎস খুঁজতে থাকেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আশপাশে পানির ব্যবস্থা না পেয়ে তাঁরা পাশের সিরাজুম মুনিরা জামে মসজিদ থেকে মোটরের সাহায্যে পানি সংগ্রহ করেন। সেই পানি ব্যবহার করে আগুন নেভানোর কাজ চালানো হয়।

আদিল নামে এক যুবক বলেন, সেখানে পানির ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নেভাতে মসজিদ থেকে পানি আনা হয়েছে।

আগুন লাগার পর চকবাজারের মার্কেটগুলো বন্ধ হয়ে যায়। পুরো এলাকায় কেনাকাটা বন্ধ থাকলেও ঘটনাস্থল ও আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আনসার ও পুলিশ সদস্যদের।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০