মূল লেখায় যান
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ · ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রিয় চট্টগ্রাম

শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম প্রণয়নের আহ্বান

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা প্রদানে শিল্পোদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেছেন, ২০২৯ সালে স্বল্পোন্ন

শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম প্রণয়নের আহ্বান

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা প্রদানে শিল্পোদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেছেন, ২০২৯ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার বিকল্প নেই।

বুধবার (৪ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হবে, যাতে শিল্পের সমস্যা সমাধানে উদ্যোক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে গুরুত্ব দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অতিথি বক্তা হিসেবে শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও সংশোধনে শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণালব্ধ ফলাফলের বাণিজ্যিক ব্যবহার ও যৌথ গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

আলোচনায় একাডেমিয়ার পক্ষে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। ইন্ডাস্ট্রির পক্ষে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, শিল্পের চাহিদার আলোকে পাঠ্যক্রম প্রণয়নে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সমন্বয় থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান, গবেষণা ও মেধাকে শিল্পখাতের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিয়োগদাতাদের প্রত্যাশিত দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রতিফলন পাঠ্যক্রমে থাকা প্রয়োজন। এ জন্য শিল্পোদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে দক্ষ ও কর্মমুখী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিল্প ও একাডেমিয়ার সহযোগিতা বাড়াতে হবে। শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের উপযোগী করতে হবে। আগামীর অর্থনীতি হবে প্রতিযোগিতামূলক ও চ্যালেঞ্জিং। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে হবে।

পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিল্প ও একাডেমিয়ার কার্যকর অংশীদারত্ব জরুরি। প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানকে শিল্পের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এতে দক্ষ পেশাজীবী তৈরি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের শিল্পখাতের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, শিল্পখাতের উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কাজে লাগাতে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব ও গবেষণাগারের উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের অর্থ ব্যয়ের আহ্বান জানান।

সভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, একেখান গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দীন কাসেম খান, চেম্বারের সাবেক পরিচালক ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী ও এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এস এম ফজলুল হক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুর, চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, আসাদ ইফতেখার, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান ও মো. সেলিম নুর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ হাসান মিয়াসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০
সব খবর দেখুন