মূল লেখায় যান
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ · ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত খবরের জেরে কোনো সাংবাদিক, গণমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত খবরের জেরে কোনো সাংবাদিক, গণমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সাথে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং হয়রানি বন্ধে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার জন্য গঠিত এ কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিভিন্ন অংশীজনের মতামত, সাংবাদিকদের সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করা হয়। আইনটি যাতে সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম বা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

খসড়া আইনে মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার কথা বলা হয়। মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সাথে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা স্পষ্ট করার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়। আইনের অস্পষ্ট বা অতিব্যাপক সংজ্ঞার কারণে যাতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে মতামত দেন সভায় অংশ নেয়া ব্যক্তিরা।

এছাড়া খসড়া আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা, কোনো কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ জানানো এবং ব্লক করা কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। কোনো সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আগে লিখিত নোটিশ দেয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য কাঠামোতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পরামর্শ করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

সভায় অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়াটি আরও পরিমার্জন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা হয়। জনসাধারণের মতামত নিয়ে খসড়াটিকে আরও গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়।

এসময় আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০