গাজীপুর থেকে ঢাকার বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এমন অবস্থায় প্রকল্পটি বাতিল না করে অবশিষ্ট কাজ শেষ করে দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি বলেছে, বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে প্রায় সম্পন্ন একটি গণপরিবহন প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক। প্রয়োজনীয় কারিগরি সংস্কার ও নকশাগত ত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করা উচিত।
আইপিডির মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ যানজট, যাতায়াতে দুর্ভোগ, সময়ের অপচয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এখন প্রকল্পটি বাতিল করা হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিনিময়ে জনগণ কোনো সুফল পাবেন না।
সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে আরও প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তুলনামূলক কম অর্থ ব্যয়ে চালু করা সম্ভব এমন একটি গণপরিবহন প্রকল্প বাতিলের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আইপিডি। তাদের মতে, নকশা ও বাস্তবায়নের ত্রুটি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়াই হবে অধিক যুক্তিসংগত।
বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের পরিবহন পরিকল্পনার মধ্যেও অসংগতির কথা তুলে ধরেছে সংস্থাটি। একদিকে ঢাকায় বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিংয়ের মাধ্যমে বাসভিত্তিক গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে প্রায় শেষ হওয়া বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইপিডির মতে, সরকারের এ দুই অবস্থানের মধ্যে নীতিগত বৈপরীত্য রয়েছে।
এ ছাড়া পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নির্মাণ নিয়ে নাগরিকদের প্রতিবাদের বিষয়টিও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে আইপিডি। সংস্থাটির মতে, এসব ঘটনা অবকাঠামো উন্নয়নে সামগ্রিক জনস্বার্থ, পরিকল্পনা ও পরিবেশগত বিষয় বিবেচনার গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জনস্বার্থের বদলে বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।
বিআরটি প্রকল্পের নকশা, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনায় থাকা ত্রুটিগুলো নিরপেক্ষ কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে শনাক্ত করে সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে আইপিডি। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণ অনুসন্ধানে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
আইপিডির বক্তব্য, প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থের অপচয় ও দীর্ঘসূত্রতার জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান না করে প্রকল্প বাতিল করা হলে ভবিষ্যতের উন্নয়ন প্রকল্পেও অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
প্রকল্পটি চালুর বিষয়ে পাঁচটি সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এগুলো হলো—বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, অবশিষ্ট কাজ শেষ করা ও নকশাগত ত্রুটি সংশোধন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চালুর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনা।
এ ছাড়া ঢাকা-গাজীপুর করিডরে বিআরটি, কমিউটার রেল, পদচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং অন্যান্য পরিবহনব্যবস্থার মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেছে আইপিডি।
সংস্থাটির মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্মিত অবকাঠামো পরিত্যক্ত বা অকার্যকর অবস্থায় ফেলে রাখা উচিত নয়। প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে এসব অবকাঠামোর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। গাজীপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমানো এবং টেকসই গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বার্থে বিআরটি প্রকল্পটি চালুর কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইপিডি।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।