খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন বা শারীরিক সুস্থতার মাধ্যম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন পেশা হিসেবেও স্বীকৃত। বাংলাদেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্কুল পর্যায় থেকেই পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করেছে সরকার। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার (২১ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা মানুষের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দেশপ্রেমের চেতনাও জোরদার হয়। একটি সুস্থ, সচেতন, কর্মক্ষম ও আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম।
অ্যাথলেটিক্সকে খেলাধুলার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দৌড়, লাফ ও নিক্ষেপের মতো ইভেন্টের মাধ্যমে একজন অ্যাথলেটের গতি, শক্তি, সহনশীলতা, সমন্বয় ও মানসিক দৃঢ়তা বাড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে একটি দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা ও ক্রীড়ার উন্নয়ন তুলে ধরতেও অ্যাথলেটিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এ খাতের উন্নয়ন, তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত অনেক প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী রয়েছেন, যাঁদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের প্রতিভা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচ, বিজ্ঞানভিত্তিক অনুশীলন, পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেটদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রীড়া সংস্থা এবং জাতীয় ফেডারেশনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার পাশাপাশি তাঁদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। ক্রীড়াবিদেরা যেন খেলাধুলাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
খেলাধুলায় শৃঙ্খলা, সততা, ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতা ও প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, জয়-পরাজয় প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক অংশ। একজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদ বিজয়ের আনন্দে সংযত থাকেন এবং পরাজয় থেকেও শিক্ষা নেন। তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেটদের নিয়মনীতি মেনে নিষ্ঠা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সাথে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারি বজায় রাখার অনুরোধ করেন।
তরুণ সমাজকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের মেধা, শ্রম, সাহস ও সৃজনশীলতাকে ইতিবাচক কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আরও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। খেলাধুলা তরুণদের মাদক, হতাশা, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে রেখে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে পারে। মাঠের অনুশীলনের মধ্য দিয়ে তারা সময়ানুবর্তিতা, দলগত দায়িত্ববোধ, অধ্যবসায় ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার শিক্ষা পায়।
অ্যাথলেটিক্সে নারী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ ও সাফল্য নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নারী অ্যাথলেটদের প্রতিভা বিকাশ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সাথে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভৌগোলিক অবস্থান বা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কেউ প্রতিভা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সরকার, ক্রীড়া ফেডারেশন, ক্লাব, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাঠ সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন এবং ক্রীড়াবিদদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে কার্যকর ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন, প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরির কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে।
‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’ শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রতিভার বিকাশ, তরুণ-তরুণীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং জাতীয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাণীর শেষাংশে প্রতিযোগিতার আয়োজক, অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা, বিচারক, ক্রীড়া সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।