আওয়ামী লীগের সাথে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, দলটির নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আলাদা বিষয় হলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে যারা জনগণের ওপর সহিংসতা চালিয়েছে, তাদের অবশ্যই বিচারব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।
সোমবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনের একটি অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
কায়সার কামাল বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গসংগঠন ব্যবহার করে জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিচার করতে হবে। তাঁর মতে, এই বিচার শুধু শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, ভবিষ্যতে যাতে কেউ বাংলাদেশে একই ধরনের কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সাহস না পায়, সে জন্যও একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করা প্রয়োজন।
বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, তাঁদের কেউ অনুশোচনা প্রকাশ করছেন না। তাঁদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক পুনর্মিলনের কথা বলে তাঁদের দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে কায়সার কামাল বলেন, গত দেড় দশকে বিচারব্যবস্থা কর্তৃত্ববাদী সরকারের প্রভাবের মধ্যে ছিল। বর্তমানে জনগণের সরকার ক্ষমতায় থাকায় বিচারব্যবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশে একটি ন্যায়সংগত ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টেকসই করতে শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার। তাঁর মতে, সরকারের বৈধতা ও জনআস্থা নির্ভর করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসনের ওপর।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন কায়সার কামাল।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।