জাতীয় সংসদে বিএনপির হয়ে কাজ করার সুযোগ চান মডেল থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া মেঘনা আলম। দলীয় আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে নয়, বরং জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণ, কূটনীতি ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা তুলে ধরেন মেঘনা আলম। জাতীয় সংসদে তরুণদের কর্মক্ষমতা ও প্রবীণদের প্রজ্ঞার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সংসদ শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার জায়গা নয়; যুক্তি, তথ্য, নীতিবিশ্লেষণ ও জবাবদিহির মাধ্যমে জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
মেঘনা আলমের ভাষ্য, জাতীয় সংসদে এমন মানুষেরও প্রয়োজন, যাদের সুশাসন, আইন ও নীতিনির্ধারণ, কূটনৈতিক আলোচনা, সমঝোতা এবং জলবায়ু ও জেন্ডার-সংবেদনশীল বিষয়ে কাজ করার বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘আমি নতুন মুখ হতে পারি। কিন্তু আমার বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ, জ্ঞান, দক্ষতা ও কাজের ক্ষেত্রগুলো যেন শুধু নতুন পরিচয়ের কারণে বিবেচনার বাইরে না থাকে।’
সংসদে দলের পাশাপাশি দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করতে চান জানিয়ে মেঘনা আলম বলেন, ‘আমি অনুগ্রহ নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ চাই, যাতে সংসদে দলের পাশাপাশি দেশ ও জনগণের জন্যও কার্যকর অবদান রাখতে পারি।’
পোস্টে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে মেঘনা আলম জানান, বিএনপির কোনো বড় নেতা, মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের সাথে আত্মীয়তার পরিচয় দেখানোর সুযোগ তাঁর নেই। নিজের বিবেচনায় দেশের স্বার্থকে সামনে রেখে বিএনপিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেন মেঘনা আলম। তিনি জানান, তার বাবা বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)-এর আহ্বায়ক। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার বাবা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাথে সম্মুখসারিতে থেকে লড়াই করেছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
মেঘনা আলমের মতে, তার রাজনৈতিক পথচলা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়; এর পেছনে রয়েছে পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যয় থেকেই তিনি রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন।
জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা গর্বের বিষয় হবে বলেও মনে করেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে মেঘনা আলম বলেন, সংসদে প্রবীণদের প্রজ্ঞার সাথে তরুণদের কর্মক্ষমতার সমন্বয় হলে দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনতে পারে।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।