সংবিধান সংশোধনবিষয়ক সংসদীয় বিশেষ কমিটির কাছ থেকে সর্বোচ্চ অর্জন প্রত্যাশা করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) জতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদদের নিয়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, আমরা আশা করব যে, সংবিধান যে পর্যায়ে আছে এখন তার চেয়ে যেন আমরা অনেক অ্যাডভান্সড একটা সংবিধান পাই এবং যতটুক অর্জন হবে সেটাই আমাদের লাভ। তবে আমরা চাই সর্বোচ্চ অর্জন যেন হয়।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমরা কি চেয়েছিলাম আইনের মধ্যেই আপনারা বুঝতে পারেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি সংবিধানে যেকোনো পরিবর্তনই একটা সংস্কার যদি এটা ইতিবাচক হয়। আমি বিশ্বাস করি আল্টিমেটলি আমরা লক্ষ্যটা অ্যাচিভ করতে পারছি কিনা, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সেটা হচ্ছে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট।
আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান যে পর্যায়ে আছে এখন তার চেয়ে যেন আমরা অনেক অ্যাডভান্সড একটা সংবিধান পাই। যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে নাকি সংবিধান সংশোধন কমিটি হবে, আর কি এটা একটা রাজনৈতিক বিরোধ এটার মধ্যে আমি যেতে চাচ্ছি না।
তিনি বলেন, আর হচ্ছে আপনার কেয়ারটেকার গভর্মেন্ট কি ফর্মে গঠন করা হবে, সেটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কথা হচ্ছে এখনো। নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে কথা হয়েছে, আর্টিকেল ৭০ নিয়ে কথা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে সম্ভবত ২০১১ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তদের নেতৃত্বে যে সংসদীয় সংবিধান সংশোধন কমিটির মিটিং হয়েছিল সেখানেও আমি ইনভাইটেড হয়েছিলাম, কথা বলেছিলাম। আমরা অনেক প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু পরে প্রতারিত হয়েছি। পরে দেখলাম যে, খুবই নিন্দিত একটা সংশোধনী পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ হয়েছে।
তিনি বলেন, এটা তো সেকেন্ড আশা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে, তো আশা করি এবার আমরা আরো ভালো পরিবর্তন পাবো, গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশাটা যেন আমাদের মাথায় থাকে সেটা আপিল করেছি।
আসিফ নজরুল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন যে বাদ করা হয়েছে এটা নিয়ে আমি আমার হতাশা প্রকাশ করেছি এবং স্মরণ করিয়ে দিয়েছি যে বিএনপির নিজস্ব যে কমিটমেন্ট সেটাও ছিল এগুলোর পক্ষে। তখন মাননীয় আইনমন্ত্রী আমাকে বলেছেন যে এটা ওনারা আইন করবেন পরে। এটা ওনারা বাদ দিয়েছেন মানে একদম সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দিয়েছেন, এমন না।
সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলো নিয়ে কমিটিকে পরামর্শ দেয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি রিকোয়েস্ট করেছিলাম যে এগুলি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা কমিটির প্রধান হিসেবে যেন বিরোধী দলের সদস্যদের রাখা হয়। তো এটার ব্যাপারে কোন উত্তর পাইনি।
স্থায়ী কমিটিগুলো যেন ঠিকমত কাজ করতে পারে এজন্য সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদে একটা আইন প্রণয়নের থাকার কথা তুলে ধরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এ আইন উপদেষ্টা বলেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেব বলেছেন যে এটা ওনারা করবেন।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।