মূল লেখায় যান
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ · ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সারাবিশ্ব

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুক্রবারের লেনদেন শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সৌদি আরবে হুতিদের হামলা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা...

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুক্রবারের লেনদেন শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সৌদি আরবে হুতিদের হামলা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায় তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ৫৫ সেন্ট বা ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ১১৬ ডলার ৭২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। গত ২৯ এপ্রিলের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ দাম। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়েছে। ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ৮০ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৩ ডলার ২৭ সেন্টে পৌঁছেছে। পুরো সপ্তাহের হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

তেলের বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এলপিএল ফাইন্যান্সিয়ালের প্রধান কৌশলবিদ অ্যাডাম টার্নকুইস্ট বলেন, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থানে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার পর তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মুখে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যেতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই তেলের দাম বাড়ছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল কুয়াইন উপকূলে একটি জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার খবর জানিয়েছে দেশটির পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে কী কারণে তেল ছড়িয়ে পড়েছে এবং কোন জাহাজ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এ ঘটনায় উপকূলীয় পরিবেশ ও সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জাহাজ চলাচল-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল জাজিরা এলাকার পশ্চিমে একটি অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানার পর ‘জেম নম্বর ২’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার সঙ্গে ওই জাহাজের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে এ ধরনের ঘটনা জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ তাদের কৌশলগত জ্বালানি মজুত থেকে তেল ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ লুইজিয়ানার একটি শোধনাগারে সরবরাহসংক্রান্ত চাপ মোকাবিলায় কৌশলগত মজুত থেকে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের অনুমোদন দিয়েছে। এর মাধ্যমে শোধনাগারটির জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা এবং বাজারে সরবরাহসংক্রান্ত চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

একইভাবে জার্মানিও কৌশলগত মজুত থেকে ডিজেল, হিটিং অয়েল ও অপরিশোধিত তেল বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের চাপ কমানো এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানির চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে এসব পদক্ষেপ সহায়ক হতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে কৌশলগত মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার পরও বাজারে দামের চাপ পুরোপুরি কমবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অন্যদিকে, লিবিয়ার দুটি তেলক্ষেত্র থেকে জাওইয়া বন্দরে তেল পরিবহনের পাইপলাইনের একটি ভালভ বন্ধ থাকায় দেশটির তেল উৎপাদন কমেছে। তেল উৎপাদন ও পরিবহনে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার পাশাপাশি অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশেও সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেওয়ায় বাজারের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডিজেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়া থেকে ডিজেলবাহী একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের দিকে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টার মধ্যেই এ উদ্যোগের খবর সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা, সমুদ্রপথে তেল পরিবহনে অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন দেশে উৎপাদন ও সরবরাহের প্রতিবন্ধকতা বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ বাড়তে পারে। এর প্রভাব বিভিন্ন দেশের পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০