মূল লেখায় যান
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ · ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সারাবিশ্ব

এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাচ্ছে ইউরোপ

বছরের অন্যান্য সময়ের মতো আবারও শীতকালীন সময়সূচিতে ফিরছে ইউরোপ। দীর্ঘদিন ধরে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের এই নিয়ম নিয়ে বিতর্ক ও তা বাতিলের নানা উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে চলতি সপ্তাহের রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে ইউরোপের অধিকাংশ দেশে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হবে। ইউরোপীয় সময়সূচি...

এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাচ্ছে ইউরোপ

বছরের অন্যান্য সময়ের মতো আবারও শীতকালীন সময়সূচিতে ফিরছে ইউরোপ। দীর্ঘদিন ধরে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের এই নিয়ম নিয়ে বিতর্ক ও তা বাতিলের নানা উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে চলতি সপ্তাহের রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে ইউরোপের অধিকাংশ দেশে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হবে।

ইউরোপীয় সময়সূচি অনুযায়ী, রোববার রাত ৩টার সময় ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে রাত ২টা করা হবে। এতে বাসিন্দারা রাতে অতিরিক্ত এক ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পাবেন। তবে সকালে দ্রুত আলো ফুটলেও বিকেল বা সন্ধ্যায় আগেভাগেই অন্ধকার নেমে আসবে।

ইউরোপজুড়ে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের এই প্রথা বহু বছর ধরেই সমালোচনার মুখে রয়েছে। ২০১৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক অনলাইন জরিপে অংশ নেওয়া ৪৬ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ এই নিয়ম স্থায়ীভাবে বন্ধের পক্ষে মত দেন।

জনমতের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে সময় পরিবর্তনের প্রথা বাতিলের প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে সদস্যদেশগুলোর ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন বন্ধ হওয়ার কথা ছিল।

তবে দেশগুলো স্থায়ীভাবে গ্রীষ্মকালীন সময় নাকি শীতকালীন সময় অনুসরণ করবে, তা নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, একেক দেশ একেক সময় বেছে নিলে অভ্যন্তরীণ ট্রেন ও বিমান চলাচল, বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক কাজে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে করোনাভাইরাস মহামারি এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিষয়টি ইউরোপীয় নেতাদের অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে পিছিয়ে যায়।

১৯৭৬ সালে বিশ্ব তেলসংকটের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের চিন্তা থেকে প্রথমে ফ্রান্সে এই পদ্ধতি চালু হয়। পরে ১৯৮০ সালে ইউরোপের অন্যান্য দেশও তা অনুসরণ করতে শুরু করে।

তবে গবেষকদের মতে, আধুনিক সময়ে এই নিয়মে জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিমাণ প্রায় নেই বললেই চলে। বরং বারবার সময় পরিবর্তনের কারণে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ির ছন্দ ব্যাহত হয়, যা ঘুমের সমস্যাসহ বিভিন্ন অসুবিধা তৈরি করতে পারে।

ইউরোপের বাইরে যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালেও একই দিনে সময় পরিবর্তন হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করা হবে ১ নভেম্বর। অন্যদিকে মরক্কো, থাইল্যান্ড, জাপান, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোতে বর্তমানে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের এই নিয়ম চালু নেই।

স্থায়ী ও সর্বসম্মত কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইউরোপের বাসিন্দাদের আগের নিয়মেই বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করে চলতে হবে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০