মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নগর বন্দর

বিশ্বকে দেখাতে চাই, সব সম্প্রদায় নিরাপদ: ডিসি জাহিদ

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ

বিশ্বকে দেখাতে চাই, সব সম্প্রদায় নিরাপদ: ডিসি জাহিদ

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। দেশের প্রতিটি নাগরিক ও সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করছেন এবং নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন এই বার্তা বিশ্বকে দিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে দুর্গোৎসব ঘিরে গুজব, অপপ্রচার ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। ছোট কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে উৎসবকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা বিশ্বের কাছে দেখাতে চাই, এই দেশের প্রতিটি নাগরিক, প্রতিটি সম্প্রদায়, প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী নিরাপদ। তারা নিরাপদে বসবাস করে, নিরাপদে তাদের উৎসব পালন করে।

এ সভায় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্‌যাপন কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে, ছোট কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, মহানগরের বাইরে চট্টগ্রাম জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ২ হাজার ২৮৭টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি মণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে পুলিশ সুপার বলেন, এ ধরনের তৎপরতা সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি থাকবে। বিভ্রান্তিকর কোনো তথ্য ছড়িয়ে পড়লে পূজা উদ্‌যাপন কমিটিগুলোকে প্রকৃত তথ্য দ্রুত তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

গুজব ও অপপ্রচারকে দুর্গোৎসবের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ছোট কোনো ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জিত করে প্রচারের চেষ্টা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পূজা উদ্‌যাপন পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে সত্য তথ্য দ্রুত তুলে ধরতে হবে। গুজব ও অপতথ্য শনাক্তে সাইবার ইউনিট কাজ করবে।

এছাড়াও পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দেন জেলা প্রশাসক। এর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের রোস্টার করে দায়িত্ব দেওয়া এবং তাদের সহজে শনাক্ত করতে আলাদা পোশাক, কটি বা আর্মব্যান্ড ব্যবহারের নির্দেশ দেন।

স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা ও মুঠোফোন নম্বর সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে পূজা কমিটিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মণ্ডপের কমিটি কিংবা জায়গা-জমি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে পূজার আগেই তা মীমাংসার পরামর্শ দেন পুলিশ সুপার।

প্রতিমা তৈরি ও পরিবহন থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। সম্ভব হলে দিনের আলোয় প্রতিমা মণ্ডপে আনা এবং সূর্যাস্তের আগেই বিসর্জন শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ সভা থেকে বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের কথা জানানো হয়। বিসর্জনে ব্যবহৃত যানবাহনের ফিটনেস এবং চালকের শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার তাগিদও দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা চাই না, এই উৎসবের আনন্দের মধ্যে কোনো বিষাদ আসুক। আমরা চাই, সবকিছু আনন্দমুখর পরিবেশে হোক।

সভায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০