মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

সপ্তাহের ব্যবধানে কমল ডিমের দাম, সবজির বাজারে মিশ্র চিত্র

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি শিম, ফুলকপি ও মুলা। এসব সবজির আগমনে কিছু সবজির দাম কমেছে। পাশাপাশি গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দামও কমেছে। তবে টমেটো ও আগাম শিমের মতো কিছু সবজি এখনো বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বাজারে সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে

সপ্তাহের ব্যবধানে কমল ডিমের দাম, সবজির বাজারে মিশ্র চিত্র
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি শিম, ফুলকপি ও মুলা। এসব সবজির আগমনে কিছু সবজির দাম কমেছে। পাশাপাশি গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দামও কমেছে। তবে টমেটো ও আগাম শিমের মতো কিছু সবজি এখনো বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বাজারে সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও লাউ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই দামে পাওয়া যাচ্ছে বেগুন ও কাঁকরোল। আগাম জাতের মুলা ও ঢ্যাঁড়সের কেজি ৭০ টাকা। তবে আগাম শিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০ টাকা। আর টমেটোর দাম কেজিতে ১৪০ টাকা।

অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।

সবজির চড়া দামের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

সবজি কিনতে আসা ক্রেতা সৌরভ আহমেদ বলেন, ‘বাজারে সবচেয়ে সস্তা সবজি লাউ ও পেঁপে। দামি সবজির মধ্যে রয়েছে টমেটো ও শিম। শীতকালীন সবজি বাজারে আসায় কিছুটা দাম কমেছে।’

মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন নেই, কমেছে ডিম

সবজির পাশাপাশি রাজধানীর মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম কমেছে ডজনপ্রতি ১০ টাকা। বর্তমানে প্রতি ডজন বাদামি ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চারটি ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকায়।

মোহাম্মদপুর টাউন হলের হেলাল ট্রেডার্সের মালিক আবু হেলাল বলেন, ‘ডিমের দাম প্রতিদিনই ওঠানামা করে। আজ বাদামি ডিমের ডজন ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকায় বিক্রি করছি। গত সপ্তাহে ডজনপ্রতি ১৫০ টাকাও বিক্রি করেছি।’

এদিকে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে রয়েছে। এক সপ্তাহে ১০ টাকা কমলে পরের সপ্তাহে আবার ১০ টাকা বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে দাম ২০০ টাকার আশপাশেই থাকে। আর সোনালি মুরগির দাম ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। আজ ৩১০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।’

মাছের বাজারে চড়া দাম

রাজধানীর মাছের বাজারেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। বর্তমানে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কাতল ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পাবদা প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি বাইম মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম পড়ছে কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি গুনতে হতে পারে। তবে মাছের আকার, জীবিত না মৃত এবং সরবরাহের ওপর নির্ভর করে দামে পার্থক্য হচ্ছে। বাজারভেদেও প্রতি কেজি মাছের দামে ১০ থেকে ২০ টাকা কমবেশি দেখা যাচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা গোলাম কাদের বলেন, ‘মাছের দাম আগের মতোই আছে। শুক্রবার সকালে দাম কিছুটা বেশি থাকে, বিকেলে আবার কমে যায়। মাছের দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। এ ছাড়া মাছ জীবিত নাকি মৃত, তার ওপরও দামের পার্থক্য হয়।’

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০