মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রিয় চট্টগ্রাম

সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যেই বন উজাড়, নীরব রেল ও বন বিভাগ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে রেলওয়ে ও সরকারি খাসজমিতে থাকা বনায়নের গাছ প্রকাশ্যে কেটে উজাড় করা হচ্ছে। ২০ দিন ধরে শতাধিক মূল্যবান গাছ কাটা হলেও এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে দাবি করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে বন বিভাগের কর্মকর্তা সরেজমিনে পর

সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যেই বন উজাড়, নীরব রেল ও বন বিভাগ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে রেলওয়ে ও সরকারি খাসজমিতে থাকা বনায়নের গাছ প্রকাশ্যে কেটে উজাড় করা হচ্ছে। ২০ দিন ধরে শতাধিক মূল্যবান গাছ কাটা হলেও এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে দাবি করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে বন বিভাগের কর্মকর্তা সরেজমিনে পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালীদের চক্র কনটেইনার ডিপো তৈরির লক্ষ্যে নির্বিচারে গাছ কেটে ও টিলা সমান করে জমি দখলের পাঁচতারা করছে।

সীতাকুণ্ড মহাসড়ক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ফৌজদারহাট জলিল রেলস্টেশনের উত্তর-পূর্ব পাশে এবং পোর্ট লিংক-২ কনটেইনার ডিপোর দক্ষিণ পাশের ‘জঙ্গল ভাটিয়ারি’ এলাকায় এই ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, গাছ কাটা শুরুর আগে ওই এলাকায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বসবাসকারী তিন শতাধিক ভূমিহীন পরিবারকে রেলওয়ের নাম ভাঙিয়ে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত হয়ে যায় এবং বাসিন্দাদের সরতে এক মাসের সময় দেওয়া হয়। মূলত এরপরই গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) থেকে চক্রটি সেখানে বন উজাড় শুরু করে। গত ২০ দিনে কাটা হয়েছে ৪০-৫০ বছর বয়সী অন্তত শতাধিক ছোট-বড় গাছ, যার বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে ট্রাকে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গাছ কাটার স্থানের কাছেই অবস্থিত বন বিভাগের ফৌজদারহাট চেকপোস্টের কর্মকর্তা মো. সাজ্জাত হোসেন জানান, সরকারি গাছ কাটার খবর পেয়ে এক সপ্তাহ আগে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা গাছের স্তূপ দেখতে পান। তবে জায়গা ও গাছ রেলওয়ের হওয়ায় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তা কাটা হচ্ছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।

সরেজমিনে গিয়েও দেখা যায়, ৭-৮ জন শ্রমিক গাছের গুঁড়ি ও ডালপালা টুকরো করছেন এবং উঁচু টিলা কেটে সমতল করা হয়েছে। গাছ কাটায় যুক্ত রহমান মনির নামে এক শ্রমিক দাবি করেন, এক ব্যক্তি টেন্ডারে কেনা গাছ কাটার দায়িত্ব তাঁদের দিয়েছেন, তবে নিয়োজিত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী গাছ কাটার কোনো তথ্য নেই এবং কোনো টেন্ডার দেওয়া হয়নি বলে জানান। পরবর্তীতে প্রমাণের ছবি ও ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালেও তিনি আর সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা বলেননি। এতে রেল ও বন বিভাগের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০