বাড়ি, স্কুলসহ লোকালয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা ডিম ফুটে জন্ম নিয়েছে বিষধর পদ্ম গোখরোর ৫০টি বাচ্চা। চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে গত দুই মাসে এসব ডিম উদ্ধার করে পরিচর্যা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিমের সদস্য আমীর হোসাইন শাওন। বাচ্চাগুলো সুস্থ রয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে সেগুলো অবমুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।
বাড়ি, স্কুলসহ লোকালয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা পদ্ম গোখরোর ডিমগুলো বয়ামে বালির ওপর রাখা হয়েছিল। নিয়মিত পরিচর্যা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে ডিম ফুটে জন্ম নেয় ৫০টি বিষধর সাপের বাচ্চা।
ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিমের সদস্য আমীর হোসাইন শাওন গত দুই মাসে বোয়ালখালীর বিভিন্ন স্থান থেকে ডিমগুলো উদ্ধার করেন। পরে সেগুলো বয়ামে বালির ওপর রেখে ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা প্রতিটি ডিম থেকেই বাচ্চা বের হয়েছে।
শাওন জানান, পদ্ম গোখরোর ডিম ফুটতে সাধারণত ৫০ থেকে ৭০ দিন সময় লাগে। উদ্ধার করা ডিমগুলো প্রায় ৪০ দিন তাঁর তত্ত্বাবধানে ছিল। এ সময়ের মধ্যে সব ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়েছে। বাচ্চাগুলোও সুস্থ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ডিমগুলোতে ছত্রাকের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশেষ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত ডিমগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, যাতে সেগুলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ফুটতে পারে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই বাচ্চাগুলো অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজকালের মধ্যে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে সাপের বাচ্চাগুলো ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই লোকালয়ে সাপের ডিম কিংবা বাচ্চা পাওয়া গেলে সেগুলো নিজে থেকে নাড়াচাড়া না করে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।