চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১৬ লাখ টাকার চিনিভর্তি কাভার্ডভ্যান ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ছিনতাইয়ের শিকার দাবি করা কাভার্ডভ্যান চালক মো. আলমগীর নিজেই পরিকল্পিতভাবে এই নাটক সাজিয়ে ১৫ টন (৩০০ বস্তা) চিনি কম দামে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) গভীর রাত পর্যন্ত বান্দরবানের লামা থানাধীন আজিজনগর বাজারে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মুদি দোকান থেকে লুণ্ঠিত চিনির মধ্য থেকে ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ১৬৬ বস্তা চিনির কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার পটিয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
যেভাবে ফাঁস হলো ছিনতাইয়ের নাটক
অভিযানের নেতৃত্বদানকারী পটিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব জানান, চালক আলমগীর পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের ভুয়া গল্প সাজিয়ে মেঘনা সুগার মিলের উৎপাদিত চিনি আজিজনগর বাজারের ব্যবসায়ী ‘রাজিব স্টোরের’ মালিক মো. রাহাত উদ্দিন জুয়েলের কাছে কম দামে বিক্রি করে দেন। পরে জুয়েল এসব চিনি স্থানীয় বিভিন্ন মুদি দোকানে ছড়িয়ে দেন। পুলিশ আজিজনগর বাজারে অভিযান চালিয়ে মুদি দোকানগুলো থেকে ১৩৪ বস্তা চিনি জব্দ করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল ক্রেতা রাহাত উদ্দিন জুয়েল পালিয়ে যাওয়ায় তার দুটি মোবাইল ফোনই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
চালককে নিয়ে ধোঁয়াশা ও পূর্বের ঘটনা
এর আগে বুধবার সকালে পটিয়ার বাদামতল এলাকা থেকে চালক আলমগীরকে অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান আরেক কাভার্ডভ্যান চালক আবুল কালাম আজাদ। আলমগীর দাবি করেছিলেন, তাকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে কাভার্ডভ্যানটি ছিনতাই করা হয়েছে। পরে বুধবার বিকেলেই কর্ণফুলী উপজেলার নতুন ভবন এলাকার সামনে থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
খাতুনগঞ্জের চিনি ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ও পরিবহন ঠিকাদার জাকির হোসেন জানান, মেঘনা সুগার মিল থেকে ২৮ টন চিনি নিয়ে নাসিরাবাদ ও পটিয়ার কারখানায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চালক আলমগীর মঙ্গলবার রাত থেকেই গাড়ির ইঞ্জিন গরম হওয়ার অজুহাতসহ নানা তালবাহানা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে চালককে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকি ১৬৬ বস্তা চিনি উদ্ধারে এবং পলাতক ব্যবসায়ী জুয়েলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।