মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রিয় চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাজস্ব বাড়লেও কাটেনি ঘাটতি

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে কিছু শুল্ক ক্যাটাগরিতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। প্রথম প্রান্তিকে ৩ শতাংশ শুল্ক ক্যাটাগরির আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ২৪১ শতাংশ। এছাড়া ১০ শতাংশ শুল্ক ক্যাটাগরি থেকে ১ হাজার ৩৩৬ কোটি, ৫ শতাংশ ক্যাটাগরি থেকে ৮৭৩ কোটি ৪০ লাখ, ১৫ শতাংশ ক

চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাজস্ব বাড়লেও কাটেনি ঘাটতি

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই শুল্ক স্টেশন। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২২ হাজার ৮৩ কোটি টাকা। অথচ এ সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩২ হাজার ৩২ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।

তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এবার রাজস্ব আদায় বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস ১৯ হাজার ৯০২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব বেড়েছে ২ হাজার ১৮১ কোটি টাকা।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, রাজস্ব আদায়ের বড় অংশই আমদানি করা পণ্যের পরিমাণ ও শুল্কায়নযোগ্য মূল্যের ওপর নির্ভরশীল। সে হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি কমে যাওয়াকে প্রথম প্রান্তিকে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম কাস্টমস দিয়ে ৯০ দশমিক ৮৪ লাখ টন আমদানি পণ্য খালাস হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই মাসে এ পরিমাণ ছিল ৯৪ দশমিক ৭৩ লাখ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি পণ্য খালাস কমেছে প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ। একই সময়ে আমদানি পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্যও ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমেছে।

একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম কাস্টমস ৭ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আদায় ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি। তবে মাসিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা ২৭ দশমিক ৯০ শতাংশ কম।

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে কিছু শুল্ক ক্যাটাগরিতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। প্রথম প্রান্তিকে ৩ শতাংশ শুল্ক ক্যাটাগরির আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ২৪১ শতাংশ। এছাড়া ১০ শতাংশ শুল্ক ক্যাটাগরি থেকে ১ হাজার ৩৩৬ কোটি, ৫ শতাংশ ক্যাটাগরি থেকে ৮৭৩ কোটি ৪০ লাখ, ১৫ শতাংশ ক্যাটাগরি থেকে ৫৯০ কোটি এবং শূন্য শতাংশ ক্যাটাগরি থেকে ৮০৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ১ শতাংশ শুল্ক ক্যাটাগরি থেকে আদায় হয়েছে ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ আল আমীন বলেন, রাজস্ব আদায় মূলত আমদানি করা পণ্যের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। সেপ্টেম্বরে আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তবে প্রথম প্রান্তিকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঘাটতি থাকলেও আগামী মাসগুলোতে তা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় ও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাস্টমস সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। একই সাথে রাজস্ব ফাঁকির মতো ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কাস্টমস ব্যবস্থাপনায় আরও পরিবর্তন আনা জরুরি। এসব পদক্ষেপ নেওয়া গেলে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। এর সাথে চট্টগ্রাম কাস্টমসের ব্যাপক কর্মকাণ্ড জড়িত। কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আদায়ের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, সেটি পূরণ করা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তার মতে, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অনেকাংশে আমদানির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। তাই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে রাজস্ব ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল হবে।


নিউজনাউ/এসএইচআর/পিপিএন/২০২৬

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০