মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রিয় চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে পাঁচ স্থানে বাইপাস, চার লেন ও ফ্লাইওভার

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দীর্ঘদিনের যানজট কমাতে পটিয়া, দোহাজারী, কেরানীহাট, লোহাগাড়া ও চকরিয়ার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব স্থানে চার লেনের সড়ক, বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। তবে প্রকল

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে পাঁচ স্থানে বাইপাস, চার লেন ও ফ্লাইওভার

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দীর্ঘদিনের যানজট কমাতে পটিয়া, দোহাজারী, কেরানীহাট, লোহাগাড়া ও চকরিয়ার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব স্থানে চার লেনের সড়ক, বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। তবে প্রকল্পটির বিস্তারিত নকশা তৈরির কাজ চললেও এখনো ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হয়নি।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ২০২২ সালের মাঠপর্যায়ের সমীক্ষার ভিত্তিতে ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের আওতায় দুটি স্থানে বাইপাস, দুটি স্থানে চার লেনের সড়ক এবং কেরানীহাটে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে।

জাইকার সমীক্ষা প্রতিবেদন ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পটিয়া সদর, চন্দনাইশের দোহাজারী, সাতকানিয়ার কেরানীহাট, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এবং চকরিয়া এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশে বাজার গড়ে উঠেছে। সড়ক ও ফুটপাতের একাংশ দখল করে থাকা অস্থায়ী দোকানপাট এবং অনিয়ন্ত্রিত ধীরগতির যানবাহনের কারণে এসব স্থানে যানজট তৈরি হয়। এতে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

পাঁচ স্থানে যে উন্নয়ন হবে

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পটিয়ায় বিদ্যমান বাইপাসের গতিপথ ধরে ৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করা হবে। বিদ্যমান সড়কের কিছু বাঁক সোজা করে প্রশস্ত ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

চন্দনাইশের দোহাজারীতে ৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার অংশে বিদ্যমান মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। সাতকানিয়ার কেরানীহাটে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের সঙ্গে সড়কপথের সংঘর্ষ এড়াতে বাইপাসের পরিবর্তে ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

লোহাগাড়ার আমিরাবাদে ৫ দশমিক ১ কিলোমিটার অংশের সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। আর চকরিয়ায় ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের বাইপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত নকশায় চারটি বাইপাস ও উন্নীত করা মূল সড়ক প্রাথমিকভাবে চার লেনের রাখার কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ বাড়লে ছয় লেনে উন্নীত করার সুবিধার্থে উভয় পাশে অতিরিক্ত লেন নির্মাণের জন্য জায়গা রাখা হবে। স্থানীয় ও ধীরগতির যানবাহনের চলাচলের জন্য মূল সড়কের দুই পাশে দুই লেনের সার্ভিস রোডও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কেরানীহাটের ফ্লাইওভারের উড়াল অংশে ছয় লেনের সুবিধা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ব্যয় ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকার বেশি

প্রকল্পের উপপরিচালক নাসরিন আরা শাহীন জানান, প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৬ দশমিক ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৭০৪ দশমিক ৭২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা থেকে ৫ লাখ ৭০ হাজার ৯১১ দশমিক ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। ভূমি অধিগ্রহণের কাজ এখনো শুরু হয়নি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাইকার সমীক্ষা অনুযায়ী পটিয়ার ইন্দ্রপুল খাল, চন্দনাইশের বরুমতি খাল, দোহাজারীর শঙ্খ নদী ও চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর ওপর ছয় লেনের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগে গুরুত্ব

জাইকার সমীক্ষা প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনপথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি এ সড়ক চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে যাত্রী ও মালামাল চলাচলের প্রধান পথ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অংশটি এখনো মূলত দুই লেনের। কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে এ সড়কে পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে। তখন বন্দরটির সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বাণিজ্যিক ও শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগে মহাসড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পাঁচটি যানজটপূর্ণ এলাকায় বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণের মাধ্যমে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০