যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ‘গাধার দল’ বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হুইলচেয়ারে একা একটা মানুষ। তার সামনে হঠাৎ এসে চিৎকার করে ‘টেররিস্ট’, ‘ট্রেইটর’ বলে দিলেন, আর তাঁর মান-সম্মান চলে গেল! কী হাস্যকর আত্মসন্তুষ্টি, কী অসুস্থ চিন্তা!’
ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও কাজের প্রশংসা করে আসিফ নজরুল আরও লেখেন, ‘ফ্যাসিস্ট খুনি শাসকের দোসর-অনুসারী এবং হৃদয়ে বাকশালধারী সুশীল বাবুরা, ভালো করে শোনেন। আপনারা সুদূরতম কল্পনাতেও বুঝতে পারবেন না, ড. ইউনূস কতটা শ্রদ্ধেয় মানুষ সারা পৃথিবীতে। তার কাজ কতোটা অনুকরণীয় হয়েছে সারা বিশ্বে। এমনকি আপনাদের প্রিয় ভারতেও! ভারতের দুই আইনসভার যৌথ অধিবেশন ডেকে কাকে সম্মানিত করা হয়েছিল, মনে আছে?’
নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মালকিন বা প্রভুদের দৌড় রাষ্ট্রদূত পর্যন্ত। আর ড. ইউনূসের জন্য হৃদয় উন্মুক্ত নেলসন ম্যান্ডেলা থেকে বিল গেটসের! আমি নিজে শক্তিশালী রাষ্ট্রপতি, রাজা-রানি আর করপোরেট দুনিয়ার শীর্ষ ব্যক্তিদের দেখেছি তার সান্নিধ্যে আপ্লুত হতে। তাকে তন্ময় হয়ে শুনতে।’
সমালোচকদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘আর আপনি, তুচ্ছ এক জীবন-যাপন করা মানুষ ড. ইউনূসকে সন্ত্রাসী বলে একটা হাঁক দিলেন, মিথ্যে গালাগালি করলেন—এতে তাঁর কী ক্ষতি হবে? সূর্যের দিকে ঢিল ছুড়ে মারলে কী হয়? কতটা আলো আড়াল হয় তাতে? গাধার দল!’
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিমানবন্দরের আট নম্বর টার্মিনাল দিয়ে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় একদল প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে ইউনূসের উদ্দেশে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’, ‘গো ব্যাক’, ‘ইউ ডেস্ট্রয় ডেমোক্রেসি’ এবং ‘ইউ কিল্ড থাউজেন্ডস অব পুলিশ’ বলতে শোনা যায়।
পরে নিরাপত্তাকর্মীরা ড. ইউনূসকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন। এ সময় তিনি ও তাঁর সাথে থাকা লামিয়া মোর্শেদ বিমানবন্দরের ভেতরে চলে যান। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।