মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

ঢাকাই মসলিনের গবেষণায় সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী

একসময় বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া ঢাকাই মসলিনের উৎপাদন টেকসই করা এবং বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দিতে ফুটি কার্পাস তুলার গবেষণায় সর্বোচ্চ আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। পাশাপাশি পুনরুদ্ধার করা মসলিন তৈরির প্রয

ঢাকাই মসলিনের গবেষণায় সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

একসময় বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া ঢাকাই মসলিনের উৎপাদন টেকসই করা এবং বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দিতে ফুটি কার্পাস তুলার গবেষণায় সর্বোচ্চ আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। পাশাপাশি পুনরুদ্ধার করা মসলিন তৈরির প্রযুক্তি দ্রুত বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড আয়োজিত ‘ঢাকাই মসলিন তৈরির কাঁচামাল ফুটি কার্পাস তুলার জাত উন্নয়ন সংক্রান্ত সেমিনার’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

শরীফুল আলম বলেন, ঢাকাই মসলিন বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস ও বস্ত্র ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের উদ্যোগে এ নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে ফুটি কার্পাস তুলার জাত, জিনগত বৈশিষ্ট্য ও আঁশের মান নিয়ে গবেষণায় মসলিনের টেকসই উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গবেষণার পাশাপাশি এখন পুনরুদ্ধার করা মসলিন তৈরির প্রযুক্তি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, দক্ষ তাঁতি, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করা গেলে মসলিনের বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। পণ্যটির স্বকীয়তা ও গুণগত মান বজায় রেখে উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং রপ্তানির সুযোগ তৈরি করা গেলে কর্মসংস্থান বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে এবং দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

ফুটি কার্পাস ও মসলিন নিয়ে গবেষণায় সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ গবেষণার অগ্রগতি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, মসলিনের ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি এর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশি-বিদেশি বাজারে পণ্যটি ছড়িয়ে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে গবেষণার বিকল্প নেই। গবেষকেরা যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পান এবং নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন, সে জন্য সরকার ও মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

তাঁতশিল্পের বিকাশে অতীতের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে শরীফুল আলম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ খাতের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি হয়। এ ছাড়া প্রান্তিক তাঁতিদের আর্থিক সহায়তা দিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার তাঁত ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁতিদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং উৎপাদনে সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

মসলিনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, ফুটি কার্পাসের গবেষণা, মসলিন তৈরির প্রযুক্তি হস্তান্তর, তাঁতিদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে ঐতিহ্যবাহী এ বস্ত্রের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশেষজ্ঞদের গবেষণা, মতামত ও পরামর্শ ঢাকাই মসলিনের উন্নয়ন ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন, মিসরের কটন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তুলা প্রজননবিষয়ক প্রধান গবেষক ড. আহমেদ মোহাম্মদ আবদেলমোঘনি আবদুলবাকি। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি গবেষক, বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০