কেবল রাজনৈতিক দলের কাঙ্ক্ষিত টিকিট বা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার মাধ্যমেই নির্বাচনে জয়ের কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, প্রার্থী নির্বাচন করবেন জনগণ; যার সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক থাকবে এবং জনগণ যাকে যোগ্য মনে করবেন, তিনিই নির্বাচিত হবেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির শীর্ষ ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ বন্ধুগোষ্ঠী ও সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব দিকনির্দেশনা দেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, অতীত সরকারের আমলের মতো কোনো প্রকার জালিয়াতি বা প্রহসনের নির্বাচন আর দেশে হতে দেওয়া হবে না। স্থানীয় কিংবা জাতীয়—সকল পর্যায়ে নির্বাচন হবে শতভাগ অবাধ ও স্বচ্ছ। তাই কোনো নেতাকর্মীরই কেবল 'মনোনয়ন পেয়েছি' ভেবে নিশ্চিত থাকার সুযোগ নেই, বরং এখন থেকেই তৃণমূলের ঘরে ঘরে গিয়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে হবে।
সামাজিক অপরাধ ও মাদকের বিস্তারের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "মাদক নির্মূলে কেবল প্রশাসনের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না। আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। দলের নেতাকর্মীরা যদি নিজ নিজ এলাকা থেকে মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন, তবে দেশ থেকে মাদকের ৫০ শতাংশ বিস্তার এমনিতেই কমে যাবে। বাকিটা কঠোর আইনি পদক্ষেপে নির্মূল করবে প্রশাসন।"
এছাড়া দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি করা কিছু গোষ্ঠী আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করতে একাট্টা হওয়ার চেষ্টা করছে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমেই যেকোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
উক্ত রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক বৈঠকে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মামুন মিয়াসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্তরের সংসদ সদস্য ও শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।