মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

দর্শক ফেরাতে সিনেমা হল আধুনিকায়নে সরকারের নতুন উদ্যোগ

দেশের সিনেমা হলগুলোর আধুনিকায়ন, দর্শক ফিরিয়ে আনা এবং চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সিনেমা হল বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের যে প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখবে সর

দর্শক ফেরাতে সিনেমা হল আধুনিকায়নে সরকারের নতুন উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সিনেমা হলগুলোর আধুনিকায়ন, দর্শক ফিরিয়ে আনা এবং চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সিনেমা হল বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের যে প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখবে সরকার।

সোমবার (১২ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ বিষয়ে প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে আলোচনা চলছে। এর অংশ হিসেবে সিনেমা হল মালিকদের সমস্যা ও দাবিগুলো জানতে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হল মালিকদের কিছু দাবি বাস্তবায়নে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। আবার কিছু বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান বের করা সম্ভব। সিনেমা হলের জন্য প্রস্তাবিত ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। অর্থ ছাড়ের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মোবাইল ফোন ও হোম থিয়েটারের কারণে সিনেমা হল একসময় হারিয়ে যাবে—এমন ধারণার সাথে একমত নন বলে জানান ইয়াসের খান চৌধুরী। তাঁর মতে, বড় পর্দায় একসাথে বসে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা ঘরে বা মোবাইল ফোনে সিনেমা দেখার চেয়ে আলাদা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সিনেমা হল ও সিনেপ্লেক্স সফলভাবে চলছে। তাই বাংলাদেশে হলগুলো কেন দর্শক ধরে রাখতে পারছে না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দর্শক ফেরাতে ভালো মানের দেশীয় চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু বিদেশি সিনেমা আমদানির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। চলচ্চিত্র আমদানি ও প্রদর্শনের ক্ষেত্রে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নিতে হবে। বিদেশি সিনেমা আমদানির অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সরকার আন্তরিক থাকবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় দেশের রাজস্ব আয় ও জনগণের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হচ্ছে, সেটিও বিবেচনা করা জরুরি।

দেশীয় চলচ্চিত্র বিদেশে প্রদর্শন ও রপ্তানির মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার কথা জানান তিনি। চলচ্চিত্র রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় দেশের জনগণ ও অর্থনীতির কতটা উপকারে আসছে, তা মূল্যায়ন করে এ খাতে সম্ভাবনা কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হবে।

সিনেমা হলের দর্শকসংকট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক হলে আসনসংখ্যার তুলনায় দর্শকের উপস্থিতি খুবই কম। এ অবস্থা কাটাতে হল মালিক, প্রযোজক ও পরিচালকদের একসাথে কাজ করতে হবে। দর্শকের চাহিদা বুঝে মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনের উদ্যোগ নিতে হবে। ভালো সিনেমা তৈরি হলে প্রযোজক, হল মালিক ও দর্শক—সব পক্ষই লাভবান হবে।

চলচ্চিত্রশিল্পে দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেন ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও পরিচালকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাধ্যমে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে আরও প্রতিভাবান শিল্পী উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সিনেমা হলগুলোতে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে বিএফডিসিকে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, আধুনিক টিকিটিং ব্যবস্থা চালু হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং হল পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসবে। এ উদ্যোগ সফল করতে হল মালিকদেরও সহযোগিতা করতে হবে।

সিনেমা হল আধুনিকায়নের অর্থ ছাড় নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে আলোচনা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বরাদ্দের অর্থ কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনার সময় শুধু সিনেপ্লেক্স নয়, প্রচলিত সিনেমা হলগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সভায় চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দাবিগুলো পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাসও দেন প্রতিমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সিনেমা হলের সংকট, আধুনিকায়ন, অর্থায়ন, চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি এবং দর্শক বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০